Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সিঙ্গাপুর ১(‌ ইকসান ফানডি)‌ ভারত ১(‌রহিম)‌

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ সিঙ্গাপুর নিজেদের মাঠে ৪ পয়েন্ট পকেটে নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে খেলা শুরু করেছিল ভারতীয় ফুটবল দলের বিরুদ্ধে এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। সেখানে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ টেবিলের একেবারে শেষে থাকা ভারতের কাছে ম্যাচটা ছিল মরণ বাঁচনের। সেই ম্যাচের প্রথমার্ধে ভারত পিছিয়ে পড়েছিল ০-‌১ ফলে, প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ের প্রথম মিনিটে হজম করা ইকসান ফানডির দেওয়া গোলে। যখন মনে হচ্ছিল সন্দেশ ৪৭ মিনিটে লাল কার্ড দেখায় ১০ জনে খেলা ভারতের হার নিশ্চিত, ঠিক তখনই ৯০ মিনিটে নাটকীয়ভাবে রহিম আলির গোলে সমতা ফেরায় ভারত। ফলে সিঙ্গাপুর যেখানে ৩ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ২০২৭ সৌদি আরব এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ওঠার রাস্তাটা মসৃণ করতে পারল না, সেখানে সমসংখ্যক ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে সুনীলদের ক্ষীণ আশা জিইয়ে থাকল।

জিততেই হবে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ওঠার লড়াইয়ে টিঁকে থাকতে , এটা বিলক্ষণ জেনেও ভারতীয় দলের চিফ কোচ খালিদ জামিল যে শুরু থেকেই কাছাখোলা আক্রমণে যাবেন না এটা জানাই ছিল। বিশেষ করে খেলাটা যখন সিঙ্গাপুরের ন্যাশানাল স্টেডিয়ামে প্রতিপক্ষ ৫৫ হাজার দর্শকের চিৎকারের সামনে। সেটা বুঝেই আক্রমণ ও রক্ষণে ভারসাম্য বজায় রেখে সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ৪-‌৪-‌২ ছকে দল সাজিয়েছিলেন খালিদ।

কাফা নেশনস কাপে ওমানের বিরুদ্ধে ব্রোঞ্জ জয়ের ম্যাচে খেলা দলের প্রথম একাদশের থেকে ৫টি বদল আনেন কোচ খালিদ। আক্রমণভাগে উল্লেখযোগ্য অন্তর্ভুক্তি স্ট্রাইকার সুনীল ছেত্রীর। শুরু থেকেই সুনীল সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে দলে ছাংতের সঙ্গে জুটি বেঁধে। ফারুক চৌধুরিকে রাখেন খালিদ একটু পিছনে। লিস্টনকে ব্যবহার করেন মূলত বাঁপ্রান্তে। মাঝমাঠে ম্যাকারটন নিকসনের ভারতীয় জার্সিতে অভিষেক ঘটে নিখিল প্রভুর পাশে। তবে ভারতীয় শিবিরের সবচেয়ে স্বস্তির জায়গা চোয়ালের চিড় সারিয়ে ফেস মাস্ক পরে রক্ষণ জমাট করতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্গানের দলে ফেরা আনোয়ার, বেকে, উভেসের সঙ্গে।

কাফা নেশনস কাপে ভারতীয় কোচ খালিদ আগাগোড়া ভরসা রেখেছিলেন নিজের দলের জমাট রক্ষণের ওপর। তার জোরেই ব্রোঞ্জ জয়ের সাফল্য আসে। এখানেও সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে নিজের সেই ফুটবল দর্শন থেকে সরে আসেননি খালিদ। বরং সিঙ্গাপুরের ঝাঁজালো আক্রমণের মুখেও ভারতীয় রক্ষণে জমাট ভাব বজায় ছিল। ফলে সিঙ্গাপুরের কোচ গ্যাভিন লি ৪-‌৩-‌২-‌১ ছকে আক্রমণ শানিয়েও প্রথম ৪৫ মিনিট ভারতীয় রক্ষণব্যুহ ভেদ করে গোলের মুখ খুলতে পারেননি। আনোয়ার, সন্দেশদের নাছোড়বান্দা ডিফেন্ডিংয়ের জোরের সামনে স্ট্রাইকার ইকসান ফানডি, নাকামুরা, সং, শাহিরানরা ভারতের বক্সের সামনে পৌঁছে আটকে যান।

কিন্তু মুহূর্তের অন্যমনস্কতায় প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ের প্রথম মিনিটে গোল হজম করতে হল ভারতীয় দলকে। পেছন থেকে হারুন হ্যারিসের লম্বা লব ভারতের বক্সের মাঝে পড়ার সময় ভারতীয় ডিফেন্ডার মহম্মদ উভেস তা ক্লিয়ার করতে তো পারেননি, বরং কেটে যান পেছন থেকে বল তাড়া করে আসা সিঙ্গাপুরের আনাউরের কাছে। আনাউরের একটা আলতো টোকায় বল চলে যায় পাশেই দৌড়ে আসা ইকসান ফানডির কাছে। ফানডি আগুয়ান গোলকিপার গুরপ্রীতের পাশ দিয়ে বল গোলে ঠেলতে কোনও ভুল করেননি। ২০২২য়ে ভিয়েতনামের মাঠে ত্রিদেশীয় আন্তর্জাতিক প্রীতি টুর্নামেন্টে ভারতের বিরুদ্ধে ১-‌১ ড্রয়ের ম্যাচেও গোল ছিল ফানডির।

প্রথমার্ধেই ০-‌১ গোলে পিছিয়ে পড়ায় ভারতের কাজটা কঠিন হয়ে যায় এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারে নিজেদের আশা জিইয়ে রাখতে। তারওপর দুর্দশা আরও বাড়ে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৪৭ মিনিটে ইসকান ফানডির মুখে হাত চালিয়ে সন্দেশ ম্যাচের দ্বিতীয় হলুদ ও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায়। বাকি সময় ১০ জনে খেলে ভারতীয় দলের পক্ষে গোল শোধ করে জয়ে ফেরাটা এভারেস্ট শৃঙ্গে ওঠার মতোই দুরুহ ছিল। ম্যাচে সমতা ফেরাতে একের পর এক বদল আনেন কোচ খালিদ দলে।

তাতেও মনে হচ্ছিল ম্যাচ থেকে পুরো ৩ পয়েন্ট নিয়ে চলে যাবে সিঙ্গাপুর। তখনই আত্মতুষ্টির খেসারত দিয়ে ৯০ মিনিটে গোল হজম করে সিঙ্গাপুর। বলা ভাল ভারতকে গোল উপহার দেয় তারা শিশুসুলভ ভুল করে। নিজেদের অর্ধে দখলে থাকা বল জর্ডন অনর্থক মাঝমাঠ থেকে গোলকিপার মাহবুদকে ব্যাকপাস করেন। সেই ব্যাক পাসে কোনও জোর ছিল না। সুনীলের বদলি হিসেবে নামা রহিম আলি সেই সুযোগটা দারুনভাবে কাজে লাগান। তিনি পেছন থেকে দৌড়ে গিয়ে বল তাড়া করতেই সিঙ্গাপুর গোলকিপার মাহবুদ এগিয়ে আসেন বল ক্লিয়ারের উদ্দেশ্য। কিন্তু রহিম তাঁর আগেই বল টোকা মেরে এগিয়ে নিতে সামনে পুরো ফাঁকা গোল। ঠান্ডা মাথায় হেঁটে হেঁটে রহিম বল জালের ভেতর পাঠান। এটা রহিমের ভারতীয় সিনিয়র দলের জার্সিতে প্রথম গোল।

নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল ১-‌১ ড্রয়ের ম্যাচে ১ পয়েন্ট প্রাপ্তিতে ভারতের আশা সামান্য হলেও জিইয়ে থাকল এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করতে। ম্যাচ শেষে সুনীল ছেত্রীর বক্তব্যেও উঠে এল সেটা। সুনীলের প্রতিক্রিয়া, ‘‌ সিঙ্গাপুরের মাঠে খেলাটা সহজ ছিল না। বিশেষ করে ১০ জন হয়ে যাওয়ার পর ম্যাচটা আরও কঠিন হয়ে যায়। ১ পয়েন্ট প্রাপ্তিটা সেই পরিপ্রেক্ষিতে মন্দ নয়। তবে এখান থেকে এশিয়ান কাপে মূল পর্বে ওঠার রাস্তাটা বেশ দুরুহ। দেখা যাক, এখনও ৩টি ম্যাচ বাকি। ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে হবে কোয়ালিফাই করার লক্ষ্যে।’‌ সন্দেশের লাল কার্ড সঠিক ছিল না কিনা, এই প্রশ্নে সুনীলের উত্তর, ‘‌ রিপ্লে না দেখা পর্যন্ত বলা সম্ভব নয়, সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল না। তবে আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়েছে, ঘটনাটা ৫০-‌৫০। রেফারি তাঁর সিদ্ধান্ত দিয়ে ফেলেছে, এখন তো আর সেটা বদলানো যেত না। তাই আমাদের ১০ জনেই খেলতে হয়েছে বাকি ম্যাচটা। ফিরে গিয়ে দেখব ঠিক কী ঘটেছিল, আমাদের খেলায় কী ভুল ত্রুটি ছিল। তারপর আবার পরের ম্যাচের জন্য তৈরি হব।’‌

সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে গোয়ার মাঠে ফিরতি ম্যাচ খেলবেন সুনীলরা ১৪ অক্টোবর।

ভারত:‌ গুরপ্রীত, বেকে, সন্দেশ, আনোয়ার, উভেস, নিখিল(‌টাংরি)‌, নিকসন(‌সাহাল)‌, লিস্টন, সুনীল(‌রহিম)‌, ছাংতে(‌উদান্তা)‌, ফারুক(‌ভালপুইয়া)‌। ‌

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *