Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাই

অলস্পোর্ট ডেস্ক: ফিফা ক্রমতালিকায় ২৯ ধাপ ওপরে থাকা ইরাকের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত শুরু করার পরও শেষে টাইব্রেকারে পরাজয় কিংস কাপ ফাইনাল থেকে ভারতকে ছিটকে দিয়েছে। আর এখন ভারতের সামনে লক্ষ্য অন্তত তৃতীয় স্থান অধিকার করা। এই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে তাদের রবিবার হারাতে হবে লেবাননকে, যাদের তারা দেশের মাঠে আগেও হারিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার শক্তিশালী ইরাকের বিরুদ্ধে উজ্জীবিত ফুটবল খেলে ভারত। সে দিন দুর্দান্ত লড়াই করেও ইরাকের বিরুদ্ধে জয়ের দোরগোড়ায় গিয়েও ফিরে আসতে হয় সাফ চ্যাম্পিয়নদের। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ২-২ থাকার পর টাইব্রেকারে অভিজ্ঞ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ব্র্যান্ডন ফার্নান্ডেজের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসায় ভারতকে সে ম্যাচে হারতে হয়। সে দিন ভারতের পারফর্ম্যান্স দেখে মনেই হয়নি যে ফিফা ক্রমতালিকায় দুই দলের মধ্যে এতটা দূরত্ব রয়েছে। ইরাককে একটিও ওপেন গোল করতে দেয়নি ভারত। তারা দু’টি গোলই করে পেনাল্টি থেকে। কিন্তু ভারতের দু’টি গোলই আসে ওপেন প্লে থেকে।

পারিবারিক কারণে (সদ্য বাবা হয়েছেন) সুনীল ছেত্রী এই টুর্নামেন্টে খেলছেন না। সুনীলের উপস্থিতিই যেখানে ভারতীয় দলকে দারুণ ভাবে উজ্জীবিত করে, সেখানে তিনি না থাকার ফলে দলের বাকি ফুটবলাররা কতটা উজ্জীবিত ও ভাল ফুটবল খেলতে পারবেন, সে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু গত ম্যাচের পারফর্ম্যান্সই বুঝিয়ে দেয় সুনীল দলের বাইরে থাকলেও এই দলের তরুণ তারকারা নিজেদের সেরাটা দিতে সব সময়ই প্রস্তুত।

এই হারের ফলে এ বার তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ লেবানন, যারা অপর সেমিফাইনালে আয়োজক থাইল্যান্ডের কাছে ১-২-এ হেরে গিয়েছে। চলতি বছরে ফিফা ক্রমতালিকায় একেবারে কাছাকাছি থাকা লেবাননকে (১০০) ভারত (৯৯) তিনবারের মুখোমুখিতে দু’দু-বার হারিয়েছে ও একবার ড্র করেছে। এই তিন ম্যাচে একটিও গোল খায়নি ভারত। ফলে এই ম্যাচে জয়ের ব্যাপারে তারা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।

ভারতীয় দলের কোচ ইগর স্টিমাচ সাংবাদিকদের বলেন, “লেবাননের বিরুদ্ধে এই নিয়ে তিন মাসে চতুর্থ ম্যাচ খেলছি আমরা। তাই দুই দলই একে অপরকে খুব ভাল করে চেনে। তাই কোচেদের কাজটাও সোজা। প্রতিপক্ষকে নতুন করে বেশি বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন নেই। নিজেদের পারফরম্যান্সে মন দেওয়াটাই বেশি জরুরি। ৯০ মিনিটে বেশি কার্যকরী হওয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ”।

ইরাকের বিরুদ্ধে জয়টা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল ভারতের কাছে। গোটা দলটাই দুর্দান্ত খেলে দু-দু’বার প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি থেকে এইমেন হুসেনের গোল সমতা আনায় ম্যাচ টাই ব্রেকারে চলে যায়। সেই ম্যাচের পারফরম্যান্সে খুশি ভারতীয় কোচ স্টিমাচ বলেন, “ক্রমতালিকায় অনেক এগিয়ে থাকা ইরাকের বিরুদ্ধে আমাদের ছেলেরা যা খেলেছে, তাতে আমি খুবই খুশি। আমরা যথেষ্ট লড়াই করেছি। দু’বার এগিয়ে থেকেছি। গুনমানে ইরাক অনেক এগিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এই ম্যাচ থেকে আমাদের অনেক বেশি কিছু প্রাপ্য ছিল। আমরা কম গোলের সুযোগ পেয়েও সেগুলো কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ছিলাম”।

এ বছর জুনে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে ভারত ও লেবাননের মধ্যে ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়। তার তিন দিন পরে ওই টুর্নামেন্টেই ফের ২-০-য় লেবাননকে হারায় ভারত এবং জুলাইয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও তারা টাই ব্রেকারে ৫-৪-এ হারায় লেবাননকে।

পরপর তিনবার ভারতের কাছে আটকে যাওয়ার পর লেবাননের সার্বিয়ান কোচ আলেকজান্দার ইলিচ বেশ সতর্ক এবং প্রতিপক্ষ সম্পর্কে যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। তিনি বলেন, “দুই দলের মধ্যে অদ্ভুত একটা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যেই অনেকগুলো ম্যাচ খেলেছি পরষ্পরের মধ্যে। তাই কালকের ম্যাচে একেবারে ওপেন গেম হবে এবং দুই দলই সেরাটা দিয়ে জিততে চাইবে। ভারতীয় দল এখন খুবই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ক্রমশ উন্নতি করছে তারা। অতীতের সঙ্গে এখনকার তুলনা করলে সেটা একেবারেই অন্যরকম মনে হবে। ইরাকের বিরুদ্ধে ওরা খুবই ভাল খেলেছে। ওদের একশো শতাংশ শ্রদ্ধা করতেই হবে। তবে আমরা কাল আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। চাপ সামলেই নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে হবে এবং ইতিবাচক ফল নিয়ে মাঠ ছাড়তে হবে। সে জন্য আমরা প্রস্তুত”।

দু’দিন আগেই ফিফা ক্রমতালিকায় ১৩ ধাপ পিছিয়ে থাকা থাইল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ায় লেবাননের কোচের গলায় সেই আত্মবিশ্বাসের সুর শুনতে পাওয়া গেল না। যা শোনা যাচ্ছে স্টিমাচের গলায়। তিনি বলেন, “ওপেন গেমই হবে বলে আমারও মনে হচ্ছে। আমার দলের ছেলেদের মাঠে সৃষ্টিশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। ওদের বলেছি মাঠে নেমে তোমরা ফুটবলকে উপভোগ করো। কোনও সময়েই ছেলেদের ফলাফল নিয়ে চাপে ফেলার পক্ষপতী নই আমি। খেলাটা আনন্দের ব্যাপার। আনন্দই পাওয়া দরকার”।

দলের অধিনায়ক ও গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধুও রবিবারের ম্যাচে জয় নিয়ে আশাবাদী। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ওয়েবসাইটে তিনি বলেন, “ইরাকের বিরুদ্ধে আমরা প্রত্যাশার চেয়েও ভাল পারফরম্যান্স দেখিয়েছি। আমাদের নিজেদের ওপর আস্থা বজায় রাখতে হবে এবং আরও ধৈর্য্যশীল হতে হবে, যা আমরা গত ম্যাচে ছিলাম। তবে প্রতিপক্ষকে বেশি সুযোগ দেওয়া যাবে না। সে দিন ইরাককে আমরাই ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ করে দিই। এই ভুল আর করা চলবে না। বড় দলের মধ্যে নিজেদের রাখতে গেলে এই ভুল আর করা চলবে না”।     

চলতি বছরে ভারত দেশের মাটিতে যে ১১টি ম্যাচ খেলেছে, তার মধ্যে ন’টিতে জিতেছে এবং দু’টিতে ড্র করেছে। অর্থাৎ এই বছরে ঘরের মাঠে হারের মুখে দেখেনি ভারত। টানা আটটি ম্যাচে গোল না খাওয়ার পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বে কুয়েতের বিরুদ্ধে গোল খায় তারা, তাও আত্মঘাতী গোল। এমন ধারাবাহিকতা অনেকদিন দেখাতে পারেনি ভারতীয় ফুটবল দল। এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ফলে ফিফার বিশ্ব ক্রমতালিকায় ৯৯ নম্বরে উঠে আসে ভারত। কিন্তু এই সাফল্য ধরে রাখার পরীক্ষায় শুরুতেই হোঁচট খেয়ে গিয়েছে তারা।

গতবারের কিংস কাপ (২০১৯) ছিল ভারতীয় কোচ হিসেবে স্টিমাচের প্রথম টুর্নামেন্ট, যেখানে ভারত আয়োজক থাইল্যান্ডকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জেতে। এখন দেখার এ বারেও লেবাননকে হারিয়ে তারা গতবারের মতো ব্রোঞ্জ পদক জিততে পারে কি না। তা হলে কিছুটা মানরক্ষা হবে গুরপ্রীতদের। 

ভারতীয় দল:

গোলকিপার: গুরপ্রীত সিং সান্ধু, অমরিন্দর সিং ও গুরমীত সিং; 

ডিফেন্ডার: আশিস রাই, নিখিল পূজারি, সন্দেশ ঝিঙ্গন, আনোয়ার আলি, মেহতাব সিং, লালচুঙনুঙ্গা, আকাশ মিশ্র ও শুভাশিস বোস; 

মিডফিল্ডার: জিকসন সিং, সুরেশ ওয়াংজাম, ব্র্যান্ডন ফার্নান্ডেজ, সহাল আব্দুল সামাদ, অনিরুদ্ধ থাপা, রোহিত কুমার, আশিক কুরুনিয়ান, নাওরেম মহেশ সিং, লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতে; 

ফরোয়ার্ড: মনবীর সিং, রহিম আলি, রাহুল কেপি; 

কোচ- ইগর স্টিমাচ।  

কিংস কাপ, ২০২৩ , তৃতীয় স্থান নির্ধারক ম্যাচ

ম্যাচ- ভারত বনাম লেবানন

ভেনু- 700th অ্যানিভার্সারি স্টেডিয়াম, চিয়াং মাই, থাইল্যাান্ড

কিক অফ- ১০ সেপ্টেম্বর, বিকেল ৪.০০

(লেখা আইএসএল ওয়েবসাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *