ছবি : মহমেডান স্পোর্টিং
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: অনিশ্চয়তার কালো মেঘ সরিয়ে অবশেষে রবিবার আইএসএল অভিযান শুরু করছে মহমেডান স্পোর্টিং। সাদা কালো ব্রিগেড জেআরডি টাটা কমপ্লেক্স স্টেডিয়ামের মাঠে জামশেদপুর এফসির মুখোমুখি হবে। একেবারে খাঁটি ভারতীয় ব্রিগেড নিয়ে লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছেন মহমেডানের ভারতীয় কোচ মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু। বিদেশি কোনও গন্ধ নেই কলকাতার তৃতীয় প্রধানের গায়ে।
বিদেশি নেই বলে এতটুকু হীনমন্যতায় ভুগছেন না মহমেডান কোচ মেহরাজ বা তাঁর ফুটবলাররা। বরং তাঁরা জামশেদপুরের বিরুদ্ধে সেরা দিয়ে প্রমাণ করতে চান ভারতীয় ফুটবলাররা কোনও অংশ কম যান না। মেহরাজ মানছেন, ১৫ দিনের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে যেখানে জামশেদপুর অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। আইএসএলের অন্যান্য অনেক দলই এক থেকে দু’মাসের বেশি অনুশীলন চালিয়ে তৈরি হয়েছে। তাই বলে মাঠে নামার আগে থেকে হাল ছেড়ে দিলে তো চলবে না। যেটুকু প্রস্তুতি হয়েছে, তার জোরেই ভাল খেলতে হবে অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে পয়েন্ট পেতে।
দলের বিদেশি নেই বলে হাহুতাশ করতে নারাজ মেহরাজ। জামশেদপুর ম্যাচের আগের দিন শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে মহমেডান কোচ বলেন, ‘ সকলেই জানেন গত মরশুমের শেষদিকে মহমেডান ক্লাব চরম আর্থিক সংকটে পড়েছিল। ট্রান্সফার ব্যানের খাঁড়াও নেমে আসে কোচ-ফুটবলারদের মাইনে সময়মতো দিতে না পারায়। সেই সমস্যা পুরোটা এখনও মেটেনি। ট্রান্সফার ব্যান পুরো না ওঠায় কোনও বিদেশি ফুটবলার নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে গতমরশুমে চুক্তি করা থাকলেও যে সমস্ত ঘরের ফুটবলারদের নাম এর আগে নথিভুক্ত করা যায়নি, তাদের আইএসএলে খেলানো সম্ভব হবে নথিভুক্ত করিয়ে নেওয়ায়। সেই তালিকায় ইসরাফিল দেওয়ান, ফারদিন আলি মোল্লা, জুয়েল আমেদ মজুমদার, হীরা মন্ডলের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলার আছে। বিদেশি থাকলে ভাল হত, কারণ বিদেশিরা সব দলেই পার্থক্য গড়ে দেয়। কিন্তু যা নেই, তা নিয়ে ভেবে লাভ নেই। বরং মনে করি, বিদেশি ফুটবলারদের জন্য সব দলেই ঘরের ছেলেদের নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ কমে যাচ্ছে। এটাই তো মহমেডানের দেশি ফুটবলারদের নিজেদের প্রমাণ করার মস্ত বড় মঞ্চ।’
সম্পূর্ণ দেশি স্কোয়াড নেই জামশেদপুরের মত দলের বিরুদ্ধে খেলা কতটা কঠিন? যেখানে জামশেদপুর দলে ৬জন ভাল বিদেশি আছে। মেহরাজের জবাব, ‘ জামশেদপুর নিঃসন্দেহে অনেক বেশি শক্তিশালী মেসি বাউলি, মাদি তালাল, স্টিফেন এজে, সিরকোভিচের মতো বিদেশি থাকায়। তারওপর জামশেদপুরের চিফ কোচ ওয়েন কোল পরিচিত নাম ভারতীয় ফুটবলে। এর আগে তাঁর কোচিংয়েই জামশেদপুর আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তাই লড়াইটা অবশ্যই কঠিত। তবে আমি গর্বিত একঝাঁক বাঙালি সহ ভারতীয় ফুটবলার নিয়ে গড়া দলের কোচ হিসেবে আইএসএল খেলতে নামছি বলে। এটা ভারতীয় ফুটবলে একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তবে এটুকু বলতে পারি, বিনা লড়াইয়ে এক ইঞ্চিও জমি ছেড়ে দেবে না আমার ফুটবলাররা প্রতিপক্ষকে।’
ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচের পর কোচ অস্কার আপনার দলের লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন। জামশেদপুরের শক্তি মাথায় রেখে নিজের দলের রক্ষণভাগ জমাট করার কথা ভাবছেন? মেহরাজের জবাব, ‘ সীমিত সাধ্যের মধ্যে আমার ফুটবলাররা মাঠে নেমে সেরা দিতে চেষ্টা করেছে এর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে। জামশেদপুরের বিরুদ্ধেও লড়বে। তবে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে ভাল খেলাটা শুধু ডিফেন্ডারদের ওপর নির্ভর করছে না, একটা দল হিসেবে লড়াইয়ের ওপর।’
চলতি মরশুমের আইএসএলে অবনমন থাকবে বলেই জানিয়েছে ফেডারেশন। এটা কতটা চিন্তায় রাখছে? মহমেডান কোচ মেহরাজের উত্তর, ‘ এখন থেকে এসব ভাবা অর্থহীন। ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে হবে। আর শুধু মহমেডান নয়, আইএসএলে অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দল পুরো তৈরি হতে পারেনি। ওড়িশা এফসি তো এখনও প্রস্তুতি শুরুই করেনি। তাই আপাতত অবনমন ভাবনা নয়, ভাল খেলে ক্লাবের সুনাম রক্ষা করাই লক্ষ্য আমার দলের ফুটবলারদের।’
৩ ম্যাচ নির্বাসিত থাকায় জামশেদপুর ম্যাচের গোলের নীচে থাকবেন না পদম ছেত্রী। তাঁর জায়গায় কে খেলবেন, এই প্রশ্নে মেহরাজ জানালেন, শুভজিত শুভদীপ বা নিখিলের মধ্যে একজনকে বেছে নেবেন ম্যাচের আগে।
দলের ফুটবলার গৌরব বোরাও বলেন, আইএসএলের মতো বড় মঞ্চে মহমেডান জার্সিতে খেলাটাই বড় মোটিভেশন। আর বিদেশি নেই বলে হীনমন্যতায় ভোগার কোনও কারণ নেই। বিদেশি থাকলেও, তাঁরা ঘরের ছেলেরা মাঠে নেমে সেরা দিতেন, এখনও তেমনটাই দেবেন, প্রতিপক্ষ যেমনই হোক না কেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
