Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী: ক্লোজ ডোর অনুশীলন তো বুঝলাম কিন্তু ক্লোজ ডোর ম্যাচটা ঠিক কী? কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে পুরো আইএসএল ক্লোজ ডোর হয়েছিল। যা রীতিমতো হতাশার। সমর্থক ছাড়া ফাঁকা গ্যালারিতে প্রতিযোগিতায় সেই উদ্যোম কোথায়? সাপোর্টাররা যার যার দলের হয়ে গলা ফাটাবে, ম্যাচের নায়কদের নিয়ে উৎসবে মাতবে সেটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু ক্লোজ ডোর ম্যাচ হলে তার কোনও উপায় নেই। এই অবস্থায় কোভিড পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই আবার দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হয় গ্যালারি। ক্লোজ ডোর অনুশীলন হতে পারে, ক্লোজ ডোর ম্যাচ কেন?

প্রশ্নটা উঠছে। কারণ গত কয়েকদিন ধরে কলকাতায় ঘাঁটি গেড়েছিল ভারতীয় সিনিয়র ফুটবল দল। চলছিল আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য শিবির। প্রথমে ফিফা ফ্রেন্ডলি তার পর রয়েছে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্ব। কলকাতায় ১০ দিনের শিবির এমনিতে ক্লোজ ডোরই। হচ্ছে শহর থেকে অনেক দূরে। এই শিবিরের অংশ হিসেবেই দুটো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল ভারতীয় ফুটবল দলের। খেলাও হয়েছে, কিন্তু তাও বন্ধ দরজার ভিতরে। প্রথম ম্যাচটি ছিল সন্তোষ ট্রফি চ্যাম্পিয়ন বাংলা দলের বিরুদ্ধে। সেখানে কোনও রকমে মান বেঁচেছে ভারতের। যারা নাকি এশিয়ান কোয়ালিফাইংয়ে খেলবে হংকংয়ের বিরুদ্ধে। তার আগে ফিফা ফ্রেন্ডলিতে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ। সেই সব ম্যাচ তো হবে লোকচক্ষুর সামনে, তাহলে অনুশীল‌ন ম্যাচ নয় কেন?

বাংলা দলের বিরুদ্ধে কোনওরকমে ২-১ গোলে ম্যাচ জেতার পরের ম্যাচটি ছিল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ফুটবল দলের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচ নৈহাটি স্টেডিয়ামে সর্বসমক্ষে খেলার কথা থাকলেও হঠাৎই সেই পরিকল্পনা বদল করে ফেডারেশন। রাতারাতি দর্শকদের সামনে হওয়ার কথা থাকা ম্যাচ চলে যায় বন্ধ দরজার পিছনে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ফুটবল অ্যাসেসিয়েশনের সর্বময় কর্তা নবাব ভট্টাচার্য হতাশাই প্রকাশ করেছেন। নৈহাটি স্টেডিয়ামে এই ম্যাচের প্রচার হয়ে গিয়েছিল বিপুল পরিমাণ। ফুটবলপ্রেমীরা টিকিটের খোঁজ খবর করতে শুরু করেছিলেন। নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল টিকিটের দামও। কিন্তু ম্যাচের ঠিক আগের দিনই খবর আসে ম্যাচ করতে হবে ক্লোজ ডোর।

নবাব ভট্টাচার্য বলছিলেন, ‘‘ফেডারেশনের অনুমতি ছাড়া তো আর ভারতীয় দলের ম্যাচ আয়োজন করতে পারি না। আমাকে এই ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল দর্শকদের সামনেই। কিন্তু ম্যাচের আগের দিন বলা হল এই ম্যাচ ক্লোজ ডোর করতে হবে। কিন্তু কেন, এর পিছনে কী আছে সেটা আমাকে বলা হয়নি।’’ এর সঙ্গে তিনি আরও জুড়ে দেন, ‘‘ভারতীয় ফুটবল দলের জন্য এরকম ম্যাচ দরকার বলেই আমার মনে হয়। অনেকবেশি মানুষের কাছে ভারতীয় ফুটবল পৌঁছনোর প্রয়োজন রয়েছে। এই ম্যাচগুলো সেটা করতে সাহায্য করবে।’’

উত্তর ২৪ পরগনা দলের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জেতে ভারতীয় দল। তবে তাদের জন্য গলা ফাটাতে সেখানে কেউ হাজির ছিল না। সুনীল ছেত্রীর মতো তারকা ভারতীয় ফুটবলার যে দলে খেলছে সেই দলকে সমর্থন করতে যে গ্যালারি ভড়াতেন সমর্থকরা সেটাই তো হল না। নবাব ভট্টাচার্য মনে করছেন এর পিছনে এমন কিছু রয়েছে সেটা সবার বোঝার বাইরে। বলছিলেন, ‘‘আমাকে মণিপুরে গিয়ে খেলতে বললে তো আমি সেখানে গিয়ে দর্শকদের সামনে খেলব। কারণ আমার দলে মণিপুরের অনেক প্লেয়ার রয়েছে। তাহলে কেন ক্লোজ ডোর?’’

ভয়টা কোথায়? এত কিছু করেও ভারতীয় ফুটবল দল ক্রমশ র‍্যাঙ্কিংয়ে নামছে। বাংলাদেশের মতো দলের বিরুদ্ধে আটকে যেতে হয়েছে। সুনীল ছেত্রী অবশ্য বলছেন, সেই ম্যাচে দল যে ভুল করেছে তা তাঁরা শুধরে নেওয়ার লক্ষ্যেই শিবিরে এসেছেন। তবুও ভারতীয় কোচ মানোলোকে নিয়েও অনেক প্রশ্ন উঠছে। গায়ের জোড়ে তাঁকে কোচ করা হয়েছিল ভারতীয় দলের, যিনি পাশাপাশি এফসি গোয়ার মতো আইএসএল ক্লাব দলেরও কোচ। এক সঙ্গে দুটো জায়গায় কোচিং করাতে গিয়েও কি তাঁর সমস্যা হচ্ছে? যদিও এই বার্তা তিনি দিয়েই দিয়েছেন, তিনি এফসি গোয়াতেই পুরোপুরি থাকবেন, ভারতীয় দলে নয়। আবার নতুন কোচের সন্ধানে নামতে হবে কল্যান চৌবেদের। তবে ঘুরে ফিরে একটাই প্রশ্ন উঠে আসছে, কেন লোক চক্ষুর আড়ালে থাকতে চাইছে ভারতীয় ফুটবল দল, ভয়টা কোথায়? অনামী দলের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের পারফর্মেন্স কেমন সেটা সবাই জেনে যাওয়ার নাকি মানোলোর স্ট্র্যাটেজি নৈহাটি স্টেডিয়াম থেকে থাইল্যান্ড বা হংকংয়ে কেউ পৌঁছে দেবে, যদিও এমনটা কেউ পারেন কিনা জানা নেই। এই ঘটনার পর সবার নজরে একটা জিনিস তো থাকবেই, লুকোছাপার ভারতীয় ফুটবল দল মূল প্রতিযোগিতার আসরে গিয়ে কতটা বাজিমাত করতে পারছে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *