সুচরিতা সেন চৌধুরী: এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে খেলতে যাওয়ার আগে মোহনবাগান কোচ সার্জিও লোবেরা বলে গিয়েছিলেন, ইন্টারকাশী ম্যাচের আগে ডার্বি নিয়ে ভাবছেন না। বরং রবিবার ডার্বি তার আগের শনিবারই তিনি তা নিয়ে কথা বলবেন, এদিনও ইন্টার কাশীর কাছে হেরে গিয়ে সেই কথাই বললেন ঠিকই কিন্তু গোয়া থেকে ড্র করে ফেরার পর ঘরের মাঠে কাশীর বিরুদ্ধে যেভাবে দলে পরিবর্তন আনলেন তাতে ধরে নেওয়াই যায় ডার্বির কথা মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা করেছেন তিনি। পরিবর্তন ট্যাকটিক্যাল নয় বরং পরের ম্যাচে পুরো দলকে হাতে পাওয়াটাই লক্ষ্য তাঁর। বলছিলেন, ‘‘আমরা মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে দুটো ম্যাচ খেলছি। ওয়ার্কলোড ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছি কারণ আমরা গোয়া আর কাশী ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিই ট্রেনিং সেশন পেয়েছি। শেষ দুটো ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি চেষ্টা করছি সেখানে যেন পুরো দল তৈরি থাকে।’’
যদিও তিনি জানালেন, আপুঁইয়ার চোট থাকায় তাঁকে না খেলানোর উপদেশ দিয়েছিলেন দলের ডাক্তার। পাশাপাশি এও জানান থাপারও হালকা চোট রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রিজার্ভে থাপা থাকলেও আপুঁইয়াকে রাখাই হয়নি। তবে বাকি পরিবর্তন নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট, ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন।
এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে খেলা ছ’জন ফুটবলারকে এদিন প্রথম দলেই রাখেননি তিনি। সেই তালিকায় রয়েছেন অনিরুদ্ধ থাপা, লিস্টন কোলাসো, শুভাশিস বোস, আলবার্তো রডরিগেজ, জেমি ম্যাকলারেন ও আপুঁইয়া। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে দলের সেরাদের বিশ্রাম দেওয়াটাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। পাশাপাশি শনিবারই গোয়ায় ম্যাচ খেলে রবিবার শহরে ফিরে মঙ্গলবার খেলতে নামতে হয়েছে মোহনবাগানকে। সব মিলে এই পরিবর্তনের পিছনে মোহনবাগান কোচের একাধিক কারণ রয়েছে তা বোঝাই গেল।
যদিও দলে আমূল পরিবর্তন করেও খেলা বদলালো না মোহনবাগানের। সেই অনিয়ন্ত্রিত আক্রমণ, রক্ষণে ফাকফোকর, মাঝমাঠে নেই কোনও বাধন। সব মিলে আইএসএল ২০২৫-২৬ যত এগিয়েছে ততই মোহনবাগানের খারাপ ফুটবল সামনে চলে এসেছে। আর এই পারফর্মেন্সের দায় নিজের কাঁধেই নিচ্ছেন লোবেরা। যদিও বলছেন, ‘‘আমি কোচ, আমাকে তো দায়িত্ব নিতেই হবে। তবে আর কিছু করার নেই। যা করা যায় সবটাই আমি করেছি। আমি খুব হতাশ, পুরো ড্রেসিংরুম হতাশ।’’
এর মধ্যেই চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে রয়েছে দল। আগের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল ড্র করার পর এই ম্যাচ মোহনবাগানকে আরও চাগিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রথমার্ধে ঠিক যতটা খারাপ ফুটবল উপহার দিল লোবেরার ছেলেরা, ততটাই জঘন্য দ্বিতীয়ার্ধেও। যখন ইন্টার কাশীর মতো দল, যার কোচ হাবাস কয়েকদিন আগেই দল ছেড়েছেন, একদমই ভালো জায়গায় নেই, তখন সেই দলকে অনেকবেশি চাপে রেখে খেলার কথা ছিল মোহনবাগানের। কিন্তু তেমনটা হল না। দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটা আক্রমণ অবশ্য দেখা গেল, কিন্তু গোল এল না। সেটাও মেনে নিলেন লোবেরা। বলছিলেন, ‘‘আমরা ৪৫ মিনিটেই হেরে গিয়েছিলাম।’’
হাবাস পরবর্তী সময়ে ইন্টার কাশীর কোচের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বাঙালী গোলকিপার অভিজিৎ মণ্ডল। সঙ্গে রয়েছেন আর এক বাঙালী গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্য। আর দুই প্রাক্তন মোহনবাগানীর হাতেই আটকে গেল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। অভিজিৎ বলছিলেন, ‘‘সবাই ভেবেছিল আমরা অনেক গোল খাব। তার উপর দলের অবস্থা তো সবারই জানা। এটাই হয়তো আমাদের ছেলেদের চাগিয়ে দিয়েছিল আরও বেশি। তবে হ্যাঁ, আমরা আমাদের পরিকল্পনায় সফল।’’
এর সঙ্গে তিনি জুড়ে দেন, ‘‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল রক্ষণ সামলে কাউন্টার অ্যাটাকে যাব। আর লক্ষ করেছিলাম, মোহনবাগানের দুই সাইডব্যাকের পিছনে অনেকটা করে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, সেটাকেই কাজে লাগাতে চেয়েছিলাম।’’ তবে তিনি এও জানিয়ে দিলেন, হাবাস চলে যাওয়ায় রাতারাতি খেলার ধরণ তাঁর পক্ষে বদলে ফেলা কখনও সম্ভব নয়, তাই হাবাসের পদ্ধতিতেই তাঁর দল খেলেছে। বলেন, ‘‘পুরো কৃতিত্ব প্লেয়ারদের, আমার এখানে কোনও ভূমিকা নেই।’’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
