Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

‌অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ ভারতীয় সিনিয়র পুরুষ ফুটবল দলের কোচ হিসেবে খালিদ জামিলের নাম ঘোষণা করলেও, একদিন আগে পর্যন্ত ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন জামশেদপুর এফসির কোচের সঙ্গে কোনও লিখিত চুক্তি করা দূরে থাক, তা নিয়ে কথাও বলেনি। তারা খালিদকে ছেড়ে জামশেদপুর এফসির কর্তাদের সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল কীভাবে ক্লাবের থেকে তাঁর রিলিজ নেওয়া যায়, সেব্যাপারে। নিজের চুক্তি নিয়ে তাই বেশ চিন্তায় ছিলেন খালিদ। অবশেষে সেট জট কেটেছে। দায়িত্ব পেয়ে গর্বিত খালিদ। বলেছেন, ‘‌জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কাফা নেশনস কাপ ও এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের ম্যাচে ভারতীয় দলকে সাফল্য এনে দিতে মরিয়া চেষ্টা চালাব।’‌

জামশেদপুর এফসির সিইও মকুল চৌধুরির থেকে রিলিজ নিয়ে সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরই খালিদের সঙ্গে চুক্তির পথে হেঁটেছে ফেডারেশন। জামশেদপুর কর্তা আগেই জানিয়েছিলেন, খালিদের কোচিংয়ে দল একটা ভাল জায়গায় পৌঁছেছে। তারওপর দল ডুরান্ড কাপে খেলেছে এইমুহূর্তে। কোয়ার্টারফাইনালেও উঠেছে। এই সময় হঠাৎ করে খালিদ চলে গেলে দল সমস্যায় পড়বে। নতুন কাউকে দায়িত্ব দিলে, তাঁর পক্ষে একইরকম ভাল পারফরমেন্স দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে, সময়ের অভাবে। তবে জাতীয় দলের স্বার্থে, খালিদকে আটকে রাখাও ঠিক নয়, ক্লাবের কথা ভেবে। অবশ্য ফেডারেশন খালিদের সঙ্গে কীধরনের চুক্তি করছে সেটাও স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

জানা গেছে, আপাতত ২ বছরের চুক্তি হয়েছে খালিদের সঙ্গে জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবে। পারফরমেন্স ভাল হলে, তা আরও ১ বছর বাড়ানো হবে। আগের কোচ মানোলো মারকোয়েজের মতো তার আগেই অবশ্য সম্মানজনক সমঝোতার মাধ্যমে চুক্তি ছিন্ন করে বেরিয়ে যাওয়ার অধিকার থাকছে খালিদের। ফেডারেশনও চাইলে চুক্তি বাতিল করতে পারে শর্তসাপেক্ষে। একটা ব্যাপার অবশ্য পরিষ্কার, সেটা হল মানোলোর মতো খালিদকে ক্লাব দল ও জাতীয় দলের দায়িত্ব একইসঙ্গে পালন করতে হবে না। অর্থাৎ দু’‌নৌকোয় পা দিয়ে চলার ব্যাপারটা থাকছে না। মানোলোর ক্ষেত্রে এটা ঘটেছিল, ফেডারেশন এফসি গোয়ার টাকাতেই জাতীয় কোচের পদে তাঁকে রেখে দেওয়ায়। মাছের তেলে মাছ ভাজার কাজ করেছিল ফেডারেশন।

খালিদের ক্ষেত্রে এমন কিছু হচ্ছে না বলেই জানা গেছে। জামশেদপুর শিবিরের খবর, খালিদকে তারা আপাতত রিলিজ করে দিচ্ছে জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনের জন্য। ডুরান্ডের বাকি ম্যাচ, আদৌ যদি সুপার কাপ হয়, তার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন কোচ নিয়োগ করবে জামশেদপুর। আইএসএল কবে হবে, সেটাই তো জানা নেই। আইএসএলের দিন ঘোষণা হলে, খালিদকে আর পাওয়া না গেলে, স্থায়ী দেশি বা বিদেশি কোচ নিয়োগের পথে হাঁটবে জামশেদপুর।

চুক্তি হয়ে যাওয়ার পর খালিদ আর দেরি করতে রাজি হন জাতীয় কোচের পদ সামলাতে। কারণ কাফা নেশনস কাপে ভারতীয় দলের প্রথম ম্যাচ ২৯ আগস্ট। প্রতিপক্ষ তাজিকিস্তান। ১ সেপ্টেম্বর প্রতিপক্ষ ইরান। ৪ সেপ্টেম্বর গ্রুপের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। সেদিক থেকে বলতে গেলে, খালিদের হাতে সময় বড়ই কম কাফা নেশনস কাপের জন্য দল গোছানোর জন্য। জাতীয় দলের কোচ করে খালিদকে বলতে গেলে এরকম অগ্নিপরীক্ষার মাঝে ফেলে দিচ্ছে ফেডারেশন। খালিদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা অবশ্য থাকছে ৯ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের মরণ বাঁচন ম্যাচে। সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ফিরতি ম্যাচ ঘরের মাঠে ১৪ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে। এই ২ ম্যাচ না জিতলে সুনীলদের এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ওঠা কার্যত শেষ।

সবচেয়ে বড় কথা, ডুরান্ড কাপে আইএসএলের অধিকাংশ ক্লাব অংশ নিচ্ছে না। তাদের ফুটবলাররা দীর্ঘসময় খেলার মাঝে নেই। ওড়িশা এফসি, বেঙ্গালুরু এফসি ও চেন্নাইন এফসি তো তাদের ক্লাবের অপারেশন বন্ধ করে দিয়েছে। ফুটবলার আর কর্মীদের মাইনে দেওয়াও। ফলে তাদের ফুটবলাররা তো ছুটিতেই রয়েছে। এঁদের মধ্যে ক’‌জন ফুটবলার ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজেকে ফিট রাখছেন বলা কঠিন। আর যে ক্লাবের ফুটবলাররা ডুরান্ড কাপে খেলছেন, তাঁদের পাওয়া নির্ভর করছে, দল নকআউটের কোন পর্যায়ে ছিটকে যায়, তারওপর। ডুরান্ডের পর যাঁরা ফ্রি হয়ে যাবেন,তাঁদের পেতে খালিদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তাদের ফিট করে তুলতেও তো একটা মিনিমাম সময় লাগবে। তারপর তো বোঝাপড়া গড়ে তোলা। নিজের খেলার কৌশলের সঙ্গে রপ্ত করার ব্যাপারটাও থাকছে। মানোলো একধরনের স্টাইলে দলকে খেলাতেন। খালিদ তো আবার রক্ষণাত্মক কৌশলে বেশি বিশ্বাসী। রক্ষণ জমাট রেখে প্রতিআক্রমণে যেতে পছন্দ করেন। তাঁর এই কৌশল কাফা নেশনস কাপের ও এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের প্রতিপক্ষদের সঙ্গে ম্যাচে কতটা খাটবে বলা মুশকিল।

এর বাইরেও একটা কিন্তু আছে। এফসি গোয়া যদি আল সিবকে হারিয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌র মূল পর্বে যেতে না পারে, তাদের ফুটবলারদের পেতে অসুবিধা হবে না। গোয়ার সমানে আর কোনও খেলা থাকছে না। কিন্তু যদি মূল পর্বে যায় গোয়া, তখন কী ছাড়বে ‌তার ফুটবলারদের?‌ এই প্রশ্ন তো মোহনবাগানের ক্ষেত্রেও থাকছে। ডুরান্ড শেষে মোহনবাগান এসজির ফুটবলারদের কী জাতীয় শিবির বা কাফা নেশনস কাপে খেলার জন্য ছাড়বে ওদের টিম ম্যানেজমেন্ট?

মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌র গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ অভিযান শুরু হবে ১৬-‌১৭ সেপ্টেম্বর। গোয়া কোয়ালিফাই করলে তাদেরও। কাফা নেশনস কাপের জন্য ফুটবলার ছাড়লে, ৪ সেপ্টেম্বর তাজিকিস্তানের মাঠে গ্রুপ পর্যায়ের শেষ ম্যাচ খেলে জাতীয় দল থেকে ফুটবলার ফেরত আসতে আসতে ৫ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর হয়ে যাবে। আর যদি ফাইনাল বা তৃতীয়-‌চতুর্থ স্থান নির্ণায়ক ম্যাচ খেলে ৮ সেপ্টেম্বর, তাহলে উজবেকিস্তান থেকে ফুটবলারদের ফিরতে ফিরতে ৯ বা ১০ সেপ্টম্বর। এই অবস্থায় আমন্ত্রণী টুর্নামেন্টের জন্য জাতীয় শিবির বা দলে খেলতে মোহনবাগান টিম ম্যানেজমেন্ট ও কোচ হোসে মোলিনা যদি তাঁর ফুটবলারদের ছাড়তে না চান, তখন ফেডারেশন কি তাদের ওপর জোর খাটাতে পারবে?‌ ইগর স্টিমাচকেও এর আগে এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। ক্লাব ও জাতীয় দলের স্বার্থের সংঘাত চিরকালীন।

সে যাই হোক, সমস্যা যতই থাক, জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব সামলাতে ১৫ আগস্ট থেকে বেঙ্গালুরুতে দ্রাবিড়-‌পাড়ুকোন সেন্টার অফ স্পোর্টস এক্সলেন্সে জাতীয় দলের শিবির শুরু করবেন খালিদ। তাতে বলা যেতেই পারে ডুরান্ড কোয়ার্টারফাইনালে ডায়মন্ড হারবার এফসির বিরুদ্ধে খালিদ ক্লাব কোচের ভূমিকায় থাকছেন না রিজার্ভ বেঞ্চে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *