Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ প্রায় ৫৫ মিনিটের কাছাকাছি ১০ জনে খেলে মহমেডানের বিরুদ্ধে ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচে ৩-‌১ গোলের জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টাফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। এর মধ্যে দুটি গোল লিস্টন কোলাসোর, একটি সুহেল বাটের। সবুজ মেরুনের এই সাফল্যকে কোনও ব্যক্তিগত ক্যারিশমা, বলতে নারাজ বাগানের কোচ বাস্তব রায়। তিনি এটাকে দলগত সংহতির ফসল ও হার মানা মনোভাবের ফল বলেই জানালেন ম্যাচ শেষে যুবভারতীতে দাঁড়িয়ে।

আপুইয়ার লাল কার্ড দেখাকে বড় কোনও অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করলেন না। বরং স্বাভাবিকভাবেই বললেন, ‘‌ ম্যাচের উত্তেজনায় এমন ঘটনা হয়ে যায়। তবে না হলেই ভাল হত। বিশেষ করে মহমেডান যেখানে প্রচন্ড লড়েছে ম্যাচ জিততে। তবে ফুটবলারদের বলেছিলাম, ১০ জন হয়ে গেলেও নিজেদের খেলা, শেপ ও শৃঙ্খলা থেকে যেন সরে না আসে। ওরা সেটা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলায় মহমেডান সমতা ফেরানোর পরও ২ গোল করে ম্যাচ জেতা সম্ভব হয়েছে। ১০ জন হয়ে যাওয়া বা মহমেডান সমতা ফেরানোর পরও মনে হয়নি ম্যাচ জিতব না।’‌

লিস্টন জোড়া করলেও তাঁকে নিয়ে আলাদা ভাবে কিছু বলতে চাইলেন না বাস্তব। দলগত সাফল্য বলে বিষয়টা এড়িয়ে গেলেন। শুধু বললেন, ‘‌ আমরা গ্রুপে সুবিধাজনক অবস্থায় আছি এদিন অন্তত, ডায়মন্ড হারবারের থেকে এক গোল বেশি করার অ্যাডভান্টেজ নিয়ে। তার মানে বাকি ম্যাচগুলো সহজ হয়ে গেল এমন নয়। এই লড়াইটা পরের ম্যাচেও জারি রাখতে হবে।’‌

মরশুম শুরুর আগে বিয়ে করেছেন লিস্টন। ডুরান্ডের প্রথম ম্যাচে জোড়া গোলের পেছনে কি স্ত্রীর প্রেরণা বাড়তি কাজ করেছে?‌ হেসে লিস্টনের উত্তর, ‘‌লেডি লাক বলতেই পারেন। ম্যাচ জেতার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। সেটা পূরণ হয়েছে। আরও ভাল লাগছে, ২ গোল করতে পেরে। বিশেষ করে ফ্রিকিকের গোলটা বেশি তৃপ্তি দিয়েছে। অনেকদিন ফ্রিকিকে গোল পাচ্ছিলাম না। তাই অফসিজনে বাড়তি প্র‌্যাকটিস যেমন করেছি, নিজেকে ফিট রাখতে, তেমন ফ্রিকিক অভ্যাস চালিয়েছি গোল পেতে। সেটা কাজে লাগায় ভাল লাগছে।’‌

১৭ নম্বর জার্সি ছেড়ে এবার হঠাৎই ৭ নম্বর জার্সি বেছে নিয়েছেন লিস্টন এবার। তার পিছনে কারণ কী, সেটা আর ভাঙলেন না বাগানের গোলগেটার। বরং বলে গেলেন, ডুরান্ড কাপ জেতার লক্ষ্য নিয়ে মরশুমের প্রথম জেতায় শুরুটা ভাল হয়েছে। এখন ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে হবে লক্ষ্যপূরণে।’‌

ম্যাচ শেষে সেখানে আক্ষেপের সুর মহমেডান কোচ মেহরাজউদ্দিনের গলায়। বললেন, ‘‌ মূলত জুনিয়র ফুটবলারদের নিয়ে যতটা মোহনবাগানের মত শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায়, তা শেষপর্যন্ত চালিয়েছে। অভিজ্ঞতার কারণে ওরা ম্যাচটা নিজেদর দখলে ধরে রাখতে পারেনি। ট্র‌্যান্সফার ব্যানের জন্য বেশ কিছু ভাল ফুটবলার নিয়েও, তাদের সই করানো যায়নি, খেলানো দূরে থাক। তবে সমতা ফেরানোর পর আর একটা গোল চাপিয়ে দিতে পারলে মোহনবাগান চাপে পড়ে যেত। উল্টে অনভিজ্ঞতার কারণে মনঃসংযোগ হারিয়ে গোল হজম করে মোহনবাগানের জয়ের পথ সুগম করে দেয় ফুটবলাররা। অভিজ্ঞ ফুটবলারে ভরা দলের বিরুদ্ধে এমনই হয়। অবশ্য শেষমুহূর্তে আমাদের বিরুদ্ধে রেফারির দেওয়া পেনাল্টি অন্যায্য। প্লেয়ারকে নয়, বলে পা দিয়ে ক্লিয়ার করেছিল আমার ডিফেন্ডার।’‌

ডুরান্ড থেকে ছিটকে গিয়ে কলকাতা লিগের ম্যাচ খেলা নিয়ে যেখানে ব্যস্ত হয়ে পড়বে মহমেডান, সেখানে ডুরান্ড কাপ জেতার অভিযান জারি রাখবে মোহনবাগান, বৃহস্পতিবার রাতে দলের চিফ কোচ হোসে মোলিনা এসে গেলে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *