Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
লিওনেল মেসি

অলস্পোর্ট ডেস্ক: লিওনেল মেসি ইন্টার মিয়ামির হয়ে তাঁর দুর্দান্ত ফর্ম অব্যাহত রেখেই দলকে প্রথম ট্রফি এনে দিলেন। রবিবার টাইব্রেকারে জিতে ইন্টার মিয়ামি লিগ কাপ চ্যাম্পিয়ন হল। ম্যাচের ২৪ মিনিটে মেসি একটি দুর্দান্ত গোল করেন এবং পরে শ্যুটআউটে আরও একটি। নির্ধারিত সময়ের ম্যাচ শেষ হয়েছিল ১-১ গোলে। এর পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। ইন্টার মিয়ামি পেনাল্টিতে (১০-৯) ন্যাশভিলকে পরাজিত করে মেসি জমনারা প্রথম ট্রফি ঘরে তুলল। লিগ কাপ শেষের সঙ্গেই মেসির ৭ ম্যাচে ১০ গোল কারে ফেললেন। মেসির দৃষ্টিনন্দন গোলের আরও একবার সাক্ষী থাকল বিশ্ব ফুটবল যখন বক্সের বাইরে থেকে তাঁর মাপা শট গোল পোস্টের উপরের কোণা ঘেঁষে জালে জড়িয়ে গেল।

লিওনার্দো ক্যাম্পানা মায়ামির হয়ে জয়ের গোলের শেষ দ্বিতীয় সুযোগটি মিস করার পর, খেলাটি একটি শুট-আউটে চলে যায় যা ছিল দুই গোলকিপারের দক্ষতার লড়াই। এলিয়ট প্যানিকোর শট মিয়ামির ড্রেক ক্যালেন্ডারের ।হাতে আটকে যেতেি মিয়ামিতে জয়ের বিস্ফোরণ ঘটল।

মেসি এবং তার সতীর্থরা আমেরিকান গোলরক্ষকের দিকে ছুটে যান, শেষ মুহূর্তে যাঁর হাতেই লিগ কাপ জয় ইন্টারের। তিনি বলেন, “দৃঢ়তা, শুধু বিশ্বাস এবং আমরা জানতাম আমরা কী করতে সক্ষম। এটা বিশেষ প্রাপ্তি এবং আমি এর অংশ হতে পেরে ধন্য।”

মিয়ামি দল, তাদের তৃতীয় মরসুমে মেজর লিগ সকারের তালিকায় সবার নিচে জায়গা পেয়েছিল যখন মেসি এক মাস আগে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর আগমনে একটা দল রাতারাতি এভাবে বদলে যাবে তা কেই বা ভেবেছিল। লিগ কাপ জয় সেই মেসি যুগের সূচনা করে দিল ইন্টার মিয়ামিতে।

সাতবারের ব্যালন ডি’ওর জয়ীর গায়ে এখন শোভা পাচ্ছে গোলাপী শার্ট। আর সেই রঙেও আগুন ছড়াচ্ছেন এলএম১০। সঙ্গে প্রথম প্রতিযোগিতাতেই ১০ গোল লিখে নিয়েছেন নিজের নামে। এমন একটিই ম্যাচ হয়নি যেখানে মেসি গোল করেননি।

স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সার্জিও বুসকেটস বলেন, ‘‘অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল। ড্র একটি ন্যায্য ফলাফল ছিল এবং পেনাল্টিতে চ্যাম্পিয়নের ভাগ্য ছিল, যা এই ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষে ছিল। মাত্র এক মাসের মধ্যে আমাদের প্রথম শিরোপা জিততে পেরে আমি খুব খুশি, ক্লাবের প্রথম। দলটি দ্রুত উন্নতি করছে এবং আমরা খুব খুশি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের আত্মা, আমাদের কাজ, আমাদের চরিত্র এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে উদ্বুদ্ধ করেছি। আমরা একটি শক্তিশালী দল তৈরি করছি এবং তারপরে আমাদের কাছে লিও রয়েছে, যার থাকা মানেই পার্থক্য তৈরি হয়ে যাওয়া, সে বিশ্বের সেরা।”

ন্যাশভিল বুসকেটস এবং মেসিকে আটকে রাখার উদ্দেশ্য নিয়েই খেলতে নেমেছিল যা তাদের খেলায় স্পষ্ট ছিল। লক্ষ্য ছিল খেলার গতিকে মন্থর করে মেসির গতিকে আটকে দেওয়া। কিন্তু মেসকে আটকে রাখা যে দুস্কর সেটা প্রমান হয়ে গিয়েছে।

গ্যারি স্মিথের দল সেটপিসে বার বার বেগ দিয়েছে ইন্টার মিয়ামিকে। ভাগ্যিস তাদের গোলের নিচে ছিলেন ক্যালেন্ডার। শুরুতেই লুকাস ম্যাকনটন কর্নার থেকে ওয়াকার জিমারম্যানের হেডার ক্যালেন্ডারকে প্রায় পরাস্ত করেই ফেলেছিল কিন্তু দক্ষতার সঙ্গে ঘর রক্ষা করেন তিনি। তার পর মেসিকে দেখা যায় নিচে নেমে দলের রক্ষণকেও নেতৃত্ব দিতে।

২৪ মিনিটে মেসির পায়ে বল আসার আগে টেলরের পাস আটকে দিলেও বল দখলে রাখতে পারেনি প্রতিপক্ষ এবং বল চলে আসে মেসির পায়ে। মেসির পায়ে বল মানেই তাঁর লক্ষ্য হবে প্রতিপক্ষের তিনকাঠি। সেটাই করেন তিনি। জিমারম্যানের পাশ কাটিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে তাঁর অপ্রতিরোধ্য ড্রাইভে বাঁ দিকটা রীতিমতো ফাঁকা হয়ে যায়। এবং দুরন্ত গতির শট প্যানিকোকে টপকে উপরের কোণা দিয়ে ঢুকে পড়ে গোলে। মাত্র আধা মিনিটের এই মুহূর্ত লেখা হয়ে থাকবে ইন্টার মিয়ামির ইতিহাসে।

প্রথম থেকেই মেসির দল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই খেলছিল। গোল পাওয়ার পর সেই আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। এর মধ্যেও বার বার গোলের সুযোগ তৈরি করে ন্যাশভিল। কিন্তু সব চেষ্টাই আটকে যায় ইন্টার মিয়ামির শেষ রক্ষণে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৫৭ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান ফাফা পিকল্ট। ৫৭ মিনিটে ম্যাচ ১-১ হয়ে যাওয়ার পর কোনও দলই আর ব্যবধান বাড়াতে পারে না। বরং কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে যায় দুই পক্ষই। যার ফল ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেও চলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

দুই দল ১১টি করে শট নেয় গোলে। যার ফল পুরো দলই পেনাল্টিতে নিজেদের মেপে নেওয়ার সুযোগ পায়। সেই তালিকায় রয়েছেন দুই পক্ষের গোলকিপারও। দুই পক্ষই একটি করে মিস করে। ৯-৯ হয়ে যায় স্কোর লাইন। শেষ শটে এলিয়ট প্যানিকোর মিসেই বাজিমাত করে ইন্টার মিয়ামি।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *