এফসি গোয়া ২(মোরেনো, ড্রাজিচ-পেনাল্টি) মহমেডান ০
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: আইএসএলের প্রথম ম্যাচে জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মাঠে জামশেদপুরের কাছে ০-১ গোলে হেরেছিল মহমেডান স্পোর্টিং। শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচে ঘরে কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এফসি গোয়ার কাছে ০-২ গোলে হারল তারা। গোয়ার নেমিল, উদান্তা সহ অন্যান্য ফুটবলাররা সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে, সাদা কালো ব্রিগেডকে আরও বড় লজ্জার হারের মুখে পড়তে হত। ইন্টার কাশীর সঙ্গে প্রথম ম্যাচে ১-১ ড্র করেছিল গোয়া নিজেদের মাঠে। মহমেডান ম্যাচে মানোলো মারকোয়েজের দল জয়ে ফিরল পল মোরেনো ও ডেজান ড্রাজিচের পেনাল্টি গোলে।
গত মরশুমে যাও মহমেডানের খেলায় একটা লড়াকু মনোভাবের দেখা মিলত, এবার তার ছিটেফোঁটাও দেখা মিলছে না। মহমেডান কোচ মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু আর করবেনই বা কী? তিনি তো ঢাল নেই, তরোয়াল নেই, এমন একটা দলের নিধিরাম সর্দার। তিনি যে দলটা হাতে পেয়েছেন আইএসএলে লড়তে, তা দিয়ে পাঁচমেশালি তরকারি রাঁধা যায় বড়জোর, বিরিয়ানির স্বাদ আনা যায় না। ফলে যা ফল হওয়ার,সেটাই হচ্ছে। ভারতীয় ফুটবলারদের নিয়ে লড়াই করার বড়াই যতই করা হোক, এফসি গোয়ার শক্তির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো ক্ষমতা মহমেডানে খেলা ভারতীয় ফুটবলারদের নেই। হয়ত এই ফুটবলারদের সঙ্গে ভাল তিন থেকে চারজন বিদেশি থাকলে, পরপর ২ ম্যাচে মহমেডানকে এভাবে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হত না। খেলতে হয় খেলছি, এই মনোভাব নিয়ে আইএসএলে অবনমন বাঁচানো কঠিন হবে মহমেডানের।
সেখানে এফসি গোয়া প্রথম ম্যাচে ইন্টার কাশীর সঙ্গে ঘরের মাঠে ড্র করে যে একেবারেই খুশি ছিল না, সেটা বোঝা গেছে মগমেডানের বিরুদ্ধে জয়ের লক্ষ্যে তারা শুরু থেকে ঝাঁপানোয়। আইএসএল দেরিতে শুরু হওয়ার কারণে এফসি গোয়া ছেড়ে চলে গেছেন গত মরশুমে দলে থাকা একাধিক ভাল মানের বিদেশি। তাও যে ভারতীয় ফুটবলাররা রয়েছেন গোয়া দলে, সঙ্গে যে বিদেশি ফুটবলাররা আছেন, তাঁদের মিলিত শক্তির কাছে মহমেডান দলটা অত্যন্ত দুর্বল।
অসম লড়াইয়ের এই সুযোগটা নিয়ে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ডেজান ড্রজিচের তোলা বল জোরালো হেডে জালের ভেতর পাঠিয়ে এফসি গোয়াকে এগিয়ে দেন পল মোরেনো। প্রথমার্ধের বাকি সময় গোয়ার দাপট অব্যাহত ছিল। মনে হচ্ছিল, যে কোনও মুহূর্তে দ্বিতীয় গোল চাপিয়ে দেবে গোয়া। কিন্তু সুযোগ নষ্টের খেসারত দেওয়ায় ৩২ মিনিট পর্যন্ত দ্বিতীয় গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় তাদের। ৩১ মিনিটে নেমিলের বাড়ানো বল ধরে উদান্তা বক্সে ঢুকে পড়লে, তাঁকে আটকাতে গিয়ে ফাউল করেন মহমেডান গোলকিপার শুভজিত। রেফারি পেনাল্টি দিতে দ্বিধা করেননি। পেনাল্টি থেকে গোল করেন ডেজান ড্রাজিচ।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য মহমেডানের খেলায় কিছুটা ঝাঁজালো ভাব নজরে এসেছে। সম্ভবত বিরতিতে মহমেডান কোচ মেহরাজ, তাঁর ফুটবলারদের বোঝাতে পেরেছিলেন, ২ গোলে পিছিয়ে থেকে রক্ষণে গুটিয়ে থেকে আরও গোল হজমের চেয়ে পাল্টা আক্রমণ হেনে গোয়াকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা ভাল। মহীতোষ, মাকানছোটে, লালথামকিমা, ইসরাফিল, ফারদিনদের খেলায় তাতে ছটফটানি বাড়ে। গোয়ার বক্সে বল নিয়ে হানা দিয়ে ৭৩ মিনিটে গোল করার জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল মহমেডান। লালথানকিমা উইংয়ে বল পেয়ে গতি বাড়িয়ে গোয়া বক্সে ঢুকে মাইনাস রেখেছিলেন মহীতোষকে লক্ষ্য করে। বক্সের ভেতর থেকে মহীতোষের নেওয়া শট গোয়া গোলকিপার ঋত্বিক তেওয়ারি আংশিক প্রতিহত করেছিলেন। আলগা বল ফাঁকায় দাঁড়ানো মাকানছোটের কাছে চলে যায়। তাড়াহুড়ো করে শট নিয়ে সেই বল ১০ গজ দূর থেকে গোলের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন তিনি।
অন্য কেউ হলে এই দল নিয়ে লড়াই করার বদলে কোচের দায়িত্ব ছেড়ে পালাতেন। কিন্তু মেহরাজ সহজে হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। গোয়া ম্যাচে হারের পর তাঁর বক্তব্য, কী আর করা যাবে। যা হাতে আছে, তাই নিয়েই লড়াই চালাতে হবে। মূল সমস্যা দলে গোল করার লোক নেই। কাউকে না কাউকে রোজই ট্রাই করছি ওই পজিশনে, কিন্তু যতক্ষণ না যথার্থ নাম্বার নাইন পাচ্ছি, ততক্ষণ ভাল কিছু হওয়া সম্ভব নয়। দেখা যাক, ২৮ ফেব্রুযারি যুবভারতীতে মোহনাবাগান সুপার জায়ান্টের মুখোমুখি হওয়ার আগে মেহরাজ তাঁর দলের স্ট্রাইকার সমস্যা মেটাতে পারেন কিনা। সঙ্গে হীনমন্যতা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
