Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: প্রতিবেশী দুই ক্লাব‌ মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল যখন ডুরান্ড ডার্বিতে মোকাবিলার জন্য নিজেদের অস্ত্রে শান দিচ্ছে, তখন মহমেডান ক্লাব জুড়ে শুধুই ব্যর্থতা আর হতাশার হাহাকার। ডুরান্ড কাপ থেকে গ্রুপ পর্বেই ছিটকে গেছে সাদা কালো ব্রিগেড। কলকাতা প্রিমিয়ার ডিভিশন ফুটবল লিগেও ধুঁকছে। অবনমন আশঙ্কায় ভুগছে। হয়ত অবনমন বেঁচে যাবে, গ্রুপের নীচের ৩ দলের অবস্থা আরও খারাপ বলে। গত মরশুমে আইএসএলে ভাল শুরু করেও পরে মহমেডান গোঁত্তা খেয়ে পড়ে, ফুটবলার ও কোচের মাইনে দিতে না পেরে। এমন একটা অবস্থা হয়েছিল, ফুটবলাররা খেলতে নামা দূরে থাক, প্র‌্যাকটিসেও নামতে চায়নি। প্রিয় দলের এই হাল পীড়া দিচ্ছে মহমেডানের অগনিত সমর্থকদের। তাঁরা ক্ষমতায় থাকা ক্লাব কর্তাদের দিকেই আঙুল তুলেছেন বর্তমান এই অবস্থার জন্য। সমর্থকদের সাফ দাবি, হয় ক্লাবের হাল ফেরান, নয় পদত্যাগ করুন।

ইতিমধ্যেই সমর্থকদের একটা অংশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তাঁরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন রেখেছেন, মহমেডান ক্লাবের আর্থিক অনটন মিটিয়ে সুদিন ফেরাতে বড় মাপের স্পনসরের ব্যবস্থা করে দিতে। মুখ্যমন্ত্রী এর আগে ক্লাবে এসে বলেছিলেন, মহমেডান ক্লাবের অসংখ্য সমর্থক। তারা একটাকা করে চাঁদা দিলেই আর্থিক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মহমেডান সমর্থকদের প্রশ্ন, তাহলে আইএসএল খেলার জন্য মুখ্যমন্ত্রী নিজে উদ্যোগ নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের জন্য বারবার স্পনসর জোগাড় করে কেন দেন?‌ ইস্টবেঙ্গলের কি সমর্থক কম আছে?‌ তাহলে তাঁদের কাছ থেকে একটাকা নিয়ে খেলার কথা মুখ্যমন্ত্রী কেন বললেন না?‌ এটাতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি যতটা না ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে, তার থেকে বেশি ঝরে পড়েছে অভিমান। তাঁদেরকে ছাগলের তৃতীয় সন্তানের মতো ট্রিট করায়।

মহমেডান কর্তারা অবশ্য সমর্থকদের এই ক্ষোভ যুক্তিসঙ্গত মনে করলেও, তাঁরা এই অবস্থার জন্য দায়ি এটা মানতে নারাজ। তাঁরা বরং দায়ি করেছেন, আগের প্রধান স্পনসর বাঙ্কারহিল ও সহযোগী স্পনসরদের প্রতিশ্রুতিমতো অর্থ না দিয়ে দলকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য। কর্তাদের সাফাই, অর্থের অভাবে দেশি, বিদেশি ফুটবলার, কোচের টাকা চুক্তিমতো মেটাতে না পারাতেই মহমেডান ক্লাবকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যানের মুখে পড়তে হয়েছে। এর থেকে রেহাই এখনও মেলেনি মহমেডানের সেই অর্থ জোগাড় করতে না পারায়। এমনকি একঝাঁক ফুটবলারের সঙ্গে কথা সেরে রাখলেও, তাঁদের সঙ্গে না চুক্তি করতে পেরেছে, না পারছে খেলাতে।

আর্থিক সঙ্কট মেটাতে নতুন স্পনসরের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন মহমেডান কর্তারা মরশুমের শুরু থেকে। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর দারস্থও হয়েছেন ইতিমধ্যে কয়েকবার। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে টেকনো ইন্ডিয়া মহমেডানের পাশে দাঁড়াতে রাজিও হয়েছে। কিন্তু সেই আর্থিক পরিমানটা যথেষ্ট নয়। তাতে বাজারে মহমেডানের বিপুল দেনার আংশিক মিটবে। ফুটবলারদের ও কোচের বকেয়া মাইনে ও ভেন্ডারদের টাকা মেটাতে ১৫ কোটি টাকা ফুরিয়ে যাবে। বাকি টাকায় শক্তিশালী দল গড়া সম্ভব নয়। ভাগ্য ভাল, আইএসএল শুরুর দিন ঘিরে অনিশ্চয়তা রয়েছে, এতে খানিকটা সুরাহা হয়েছে মহমেডান কর্তাদের। তাঁরা আরও সহযোগী স্পনসরের মাধ্যমে টাকা জোগাড়ের সুযোগ পাচ্ছেন। আইএসএল সময়মতো শুরু হলে তাঁরা হাবুডুবু খেতেন। সুপার কাপের খেলাও সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুর আগে সম্ভাবনা কম। তার মধ্যে কিছু একটা ব্যবস্থা করে ফেলবেন, এমনই মনে করছেন ক্লাব কর্তারা।

কিন্তু গত একবছর ধরে এই কর্তারাই ক্ষমতায় থেকে ক্লাবকে ভাল জায়গায় নিয়ে যেতে পারেননি। তাই সমর্থকরা ধৈর্য হারাচ্ছেন। তাঁদের মতে, এই কর্তাদের দ্বারা ভাল কিছু করা সম্ভব নয়। এঁরা খালি প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন, কাজের কাজ কিছু নয়। রাজনৈতিক ভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ঘণিষ্ট থেকেও এঁরা ক্লাবের জন্য কোনও সুযোগ সুবিধা আদায় করতে পারেননি। তাহলে এমন কর্তাদের পদে থাকার দরকার কী?‌ খানিকটা হুমকির স্বরে সমর্থকদের একটা অংশ বলেছেন, দ্রুত ক্লাবের আর্থিক সমস্যার সমাধান করে আইএসএলে লড়াই করার মতো শক্তিশালী দল গঠন করতে না পারলে, ক্ষমতায় থাকা কর্তাদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *