সুচরিতা সেন চৌধুরী: আইএসএল-এর দুর্বলতম দল হায়দরবাদ এফসি। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও দল পুরো ভারতীয় ফুটবলার আর পুরো ভারতীয় সাপোর্ট স্টাফ। তাদের বিরুদ্ধে সহজ জয় তুলে নিল মোহনবাগান। অ্যাওয়ে ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের হারের দিন হোম ম্যাচে জয় পেল মোহনবাগান। দুই দলই ডার্বি ড্র করে খেলতে নেমেছিল। এক দল হেরে ফরছে আর এক দল জিতে ভাল জায়গায় চলে গেল। শনিবার এই মরসুমে মোহনবাগানে হয়ে প্রথম ম্যাচ খেললেন জনি কাউকো। এদিনই হুগো বুমৌসকে সরিয়ে কাউকোর নাম নথিভুক্ত করিয়েছে ক্লাব। দুর্বল দলের বিরুদ্ধে তাই তাঁকে মেপে নিলেন তিনি।
এদিন প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মোহনবাগান। হায়দরাবাদ তেমন কিছুই করতে পারেনি। একদল ভারতীয় অনামী প্লেয়ারের একমাত্র সম্বল তাঁদের মাঠ জুড়ে দৌঁড়। সুপার কাপেও এই দৌঁড়ই ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানকে চমকে দিয়েছিল। কিন্তু সমস্যা একটাই অভিজ্ঞতার অভাব আর গোল করার লোক না থাকা। না হলে এই দলটা ভারতীয় ফুটবলে অ্যাসেট হতে পারত। লিখতে পারত নতুন ইতিহাস। যেখানে বিদেশির ভিড়ে ঠাসা আইএসএল, ফুটবলার থেকে সাপোর্ট স্টাফ সেখানে একটা সম্পূর্ণ ভারতীয় দল নিয়ে লড়ে যাচ্ছেন কোচ থাংবোই সিংতো।
এদিন ম্যাচ শুরুর ১২ মিনিটের মধ্যেই গোল করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দিয়েছিলেন অনিরুদ্ধ থাপা। মোহনবাগানের একটি গোলমুখি শট গোললাইন থেকে কোনও রকমে ক্লিয়ার করার চেষ্টা করে হায়দরাবাদ প্লেয়ার। সেই বলই থাপার পায়ে লেগে চলে যায় গোলে। শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে অনেকটাই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেয় মোহনবাগান। হায়দরাবাদ যে চেষ্টা করেনি তা নয়। বেশ কয়েকবার মোহনবাগানের রক্ষণেও তারা ঢুঁকে পড়েছিল। কিন্তু ফিনিশারের অভাবেই পুরো মরশুমটা ভুগতে হল দক্ষিণের এই দলকে।
প্রথমার্ধের শুরুতেই ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া মোহনবাগান প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার আক্রমণে উঠলেও গোলের ব্যবধান বাড়াতে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে পৌঁছে গেল। বেশ কয়েকটা নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া করে শেষ পর্যনন্ত গোল পেলেন জেসন কামিংস। ৪৫+২ মিনিটে ২-০ করেন তিনি। বক্সের মধ্যেই দিমিত্রি, মনভীর হয়ে বল পেয়ে গিয়েছিলেন জেসন কামিংস। এবার আর ভুল করেননি তিনি। হুগো বুমৌসকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পর কামিংসকে রাখা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। সেই প্রশ্ন থামাতে তাঁকে গোল করতেই হত।
দ্বিতীয়ার্ধে অনেক সুযোগগ তৈরি হল ঠিকই কিন্তু ব্যবধান বাড়ল না। বক্সের মধ্যে গিয়ে বার বার খেই হারালেন মোহনবাগানের স্কোরাররা। হায়দরাবাদ গোলকিপার নিশ্চিত সুযোগ বাঁচালেনও বেশ কয়েকবার। খেলা শেষ হল ২-০ গোলেই।
মোহনবাগান: বিশাল কাইথ, শুভাশিস বোস, হেক্টর ইউয়েস্তা, গ্লেন মার্টিন্স (দীপেন্দু বিশ্বাস), আমনদীপ (কিয়ান নাসিরি), মনবীর সিং, সাহাল আব্দুল সামাদ (জনি কাউকো), অভিষেক সূর্যবংশী, অনিরুদ্ধ থাপা (লালরিলিয়ানা হামতে), জেসন কামিংস, দিমিত্রি পেত্রাতোস (সুহেল আহমেদ ভাট)।
