জামশেদপুর এফসি ১ (ঋত্বিক দাস)
মোহনবাগান এসজি ১ (লিস্টন কোলাসো)
সুচরিতা সেন চৌধুরী, জামশেদপুর: জামশেদপুর বনাম মোহনবাগান ম্যাচ রিপোর্ট লেখা শুরু করার আগে পিছিয়ে যেতে হবে ২৪ ঘণ্টা। এটা সেই ম্যাচ, যে ম্যাচের উপর দাঁড়িয়েছিল আইএসএল ২০২৫-২৬ চ্যাম্পিয়নশিপ ভাগ্যের অনেকটাই। যা নিয়ে ২৪ ঘণ্টা আগেই হুঙ্কার ছেড়েছে যুযুধান দুই পক্ষ। আর তার মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমালোচনার জবাব দিয়েছিলেন লিস্টন কোলাসো। মোহনবাগান মাঝমাঠের তিনি নিয়মিত সদস্য। গোল করেন, করান, ভরসার পাত্র। তবে এই মরসুমে এখনও সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেনি। লেগেছে স্বার্থপরের তকমাও। তা বলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নামার আগে এক ঘর সাংবাদিকের সামনে সেই প্রসঙ্গ আবার উঠে এলে জেদটা বেড়ে যায় বইকি। সাংবাদিক সম্মেলন ছেড়ে যেতে যেতে অবশ্য গোল করার অঙ্গীকার করে গিয়েছিলেন তিনি। যেমন বলা তেমন কাজ। এভাবে বলে বলে ক‘জন গোল করতে পারে! যেটা করে দেখালেন লিস্টন কোলাসো। আর সেই গোলের সুবাদেই বাজিমাত করার কথা ছিল মোহনবাগানে। কিন্তু শেষবেলায় মোহনবাগানের জয়ের স্বপ্নে জল ঢেলে দিলেন ঋত্বিক দাস।
ম্যাচের বয়স তখন সবে ১৫ মিনিট। তার আগে প্রতিপক্ষ বক্সের সামনে পৌঁছেও বল নিয়ে কারিগরি দেখাতে গিয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন রবসন রবিনহো। পুরো ম্যাচে তিনি সেটাই করে গিয়েছেন। আর তার মধ্যেই লিস্টনের এক বিশ্বমানের গোল। সমালোচনার জবাবই দিলেন তিনি। যখন প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে তাঁর গোলার মতো শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের মাথার উপর দিয়ে চলে গেল গোলে। গোলের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যালবিনো গোমসের অসহায় মুখে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। বাকিটা শুধুই গোল মিসের বহর। ভাগ্যিস লিস্টনের গোলটা হয়েছিল। অন্যদিকে জামশেদপুরের যে’কটা আক্রমণ হল তা শক্ত হাতে সামলালেন বিশাল, সঙ্গে এদিন বেশ ঐক্যবদ্ধ দেখাল মোহনবাগান রক্ষণকেও। যাতে প্রভাব ফেলতে পারেনি টমের চোটও। তবে ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার ঠিক আগে মোহনবাগানের অসাধারণ ফুটবলকে ব্যর্থ করে দিল ঋত্বিকের অসাধারণ একটা হেড।
শুধু গোল মিস নয়, ছন্নছাড়া ফুটবলের তালিকায় রবসন তো ছিলেনই,যাঁকে ৭২ মিনিট পর্যন্ত মাঠে রেখে দিলেন লোবেরা। গোল মিসের তালিকায় যোগ দিলেন কখনও জেমি ম্যারলারেন, তো কখনও মনবীর। এর মধ্যে ঘরের মাঠে যতটা দাপট দেখানোর কথা ছিল জামশেদপুরের ততটা দেখা গেল না। যে জামশেদপুর এফসি কলকাতায় গিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে এসেছিল, তাদের এখানে সেভাবে খুঁজে পাওয়া গেল না। যদিও আগের দিনই কোচ কোয়েল বলেছিলেন, ‘‘মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচ তাদের কাছে পরীক্ষা।’’ সেই পরীক্ষায় তাঁর দল আটকে গেল ০-১ গোলে। মাদিহ তালালের অনুপস্থিতির প্রভাব স্পষ্ট দেখা গেল জামশেদপুরের খেলায়। যাদের সমর্থন করতে এদিন গ্যালারি ভরিয়েছিলেন প্রায় ১৩ হাজার দর্শক। কলকাতা থেকে মোহনবাগানকে সমর্থন করতে পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রায় পাঁচশো সমর্থকও। মাঝে মাঝেই উচ্ছ্বাস, হতাশার আবেগে ভাসল গ্যালারি। গত বারের ঝামেলার কথা মাথায় রেখে এবার মোহনবাগানের গ্যালারি পুরো আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল। তাও আটকানো গেল না ঝামেলা। ম্যাচ শেষে মাঠের বাইরে ঝামেলায় জরায় দুই দলের সমর্থকরা। ইটের আঘাতে মাথা ফাটে হাওড়ার মোহনবাগান সমর্থক রাজীব রায়ের।
এদিন দিমি, কামিন্সকে বেঞ্চে রেখেই দল সাজিয়েছিলেন মোহনবাগান কোচ সার্জিও লোবেরা। ৭২ মিনিটে প্রথম পরিবর্তন করলেন রবসনকে তুলে দিমিত্রিকে নামিয়ে। তাতে খুব একটা লাভ হল না। বরং প্রথমার্ধে অনেকটাই রক্ষণাত্মক খেলা জামশেদপুর এফসি দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা খাপ খুলে বেরল। পর পর আক্রমণে কিছুক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হল বিশালকেও। তবে সমতায় ফিরতে পারেনি হোম টিম। শেষ পাঁচ মিনিটে আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণে জমে গেল খেলা। মোহনবাগানের জয়ের স্বপ্নে জয় ঢেলে ঘরের মাঠে ১-১ করল জামশেদপুর। দলকে শেষ বেলায় পয়েন্ট পাইয়ে দিয়ে ম্যাচের সেরা হলেন ঋত্বিক দাস।
এদিকে এক অভিনব ঘটনাও দেখা গেল জামশেদপুরের জেআরডি টাটা স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দেখা গেল গ্যালারির মাথা টপকে মাঠের মধ্যে ঢুকে পড়ল ধোঁয়ার দল। একটা সময় এমন পরিস্থিতি হল যে পরিষ্কার করে খেলাও দেখা যাচ্ছিল না। তবে খেলা বন্ধ করা হয়নি। কানাঘুঁষো শোনা গেল ফ্লাডলাইডের আলোর আকর্ষণে যে পোকাড় দল ভিড় জমিয়েছিল তা তাড়াতেই এই ধোঁয়ার ব্যবস্থা। মিনিট দশকের বেশি এমন পরিস্থিতি চলল। তার পর ঠিক হল। যেভাবে জামশেদপুরের মাথার উপর থেকে হারের মেঘ কেটে গেল ঠিক শেষ মুহূর্তে।
মোহনবাগান: বিশাল কাইথ, টম আলড্রেড, শুভাশিস বোস, আলবার্তো রডরিগেজ, অভিষেক সিং, অনিরূদ্ধ থাপা, লিস্টন কোলাসো (দীপক টাংরি), আপুইয়া, রবসন রবিনহো (গিমিট্রি পেত্রাতোস), মনবীর সিং, জেমি ম্যাকলারেন (জেসন কামিন্স)।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
