সুচরিতা সেন চৌধুরী: শনিবার যুবভারতীর গ্যালারি বলছিল, তৈরি কলকাতা ফুটবলের চতুর্থ প্রধান। কে বলতে পারে এর পর উত্থান হয়ে জায়গা বদল হয়ে যাবে না অদূর ভবিষ্যতে! যেভাবে তৃতীয় প্রধানের অধঃপতন হচ্ছে তাতে সেই জায়গার দখল নেওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। অনেকেই অবশ্য এর পিছনে রাজনীতি দেখতে পারেন কিন্তু ফুটবলের স্বার্থে নতুন দলের উঠে আসাকে স্বাগত জানাক ফুটবলপ্রেমীরা। যখন ভারতীয় ফুটবলে হাহাকার চলছে, যখন চারদিকে ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার হিরিক, কত বড় বড় নাম অতীত হয়ে গিয়েছে। তালিকাটা অনেক বড়। সেখানে যে কোনও ক্লাবের উঠে আসা ভারতীয় ফুটবলের জন্য আশীর্বাদের মতোই। সেই তালিকায় বাংলা থেকে অবশ্যই থাকবে ডায়মন্ড হারবার এফসি। যদিও ১-৬ গোলে হেরে ডায়মন্ড হারবারের শেষটা চুড়ান্ত হতাশার। যোগ্য দল হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন নর্থইস্ট ইউনাইটেড। তা বলে বাংলার নবাগত দলের কৃতিত্বকে অস্বীকার করা যায় না। অস্বীকার করা উচিতও নয়। বরং তাদের পারাটাকে শুভেচ্ছা জানাতেই হবে। শুভেচ্ছা জানাতে হবে নর্থইস্টের দুরন্ত ফুটবলকেও।
তৃতীয় ডিভিশন আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় ডিভিশনে পৌঁছনো এবং সেখানেও চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম ডিভিশন আই লিগে জায়গা করে নেওয়া। শুরু থেকে এগিয়ে যাওয়ার ধারা ধরে রেখেছে বাংলার এই দল। হোক না তার পিছনে রয়েছে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম, হোক না তাতে লেগে রয়েছে কোনও বিশেষ রঙ, তাতেও যদি ভারতীয় তথা বাংলার ফুটবলের উন্নতি হয় তাতে ক্ষতি কি?
আই লিগের যোগ্যতা অর্জন করার পর ডুরান্ড কাপে খেলার স্বপ্ন দেখেছিল ডায়মন্ড হারবার। কিন্তু আর্মির এই টুর্নামেন্টের নিয়মে সাময়িকভাবে তাদের সুযোগ না হলেও ভাগ্য দরজা খুলে দিয়েছিল ডায়মন্ড হারবারের সামনে। আইএসএল-এর অনিশ্চয়তার মধ্যে আট দল পর পর ডুরান্ড কাপ থেকে নাম তুলে নেওয়ায় ডায়মন্ড হারবারের খেলার সুযোগ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তার পর যখন ঘরের মাঠে খেলা। তবে কেউ ভাবেনি অভিষেকেই বাজিমাত করবে এই দল। এদিনের যুবভারতীর গ্যালারি থেকে একাধিক টিফোর মধ্যে এই ব্যানারটা জ্বল জ্বল করছিল, যেখানে লেখা ছিল ‘‘অভিষেকেই বাজিমাত’’। এরও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা থাকতে পারে কিন্তু এদিন গ্যালারির রঙ বদলে দিয়েছিল ডায়মন্ড হারবার।

লিগ পর্বে বিএসএফ ও মহমেডানের বিরুদ্ধে বড় জয়ের পর মোহনবাগানের কাছে পাঁচ গোলের ধাক্কা সামলে কোয়ার্টার ফাইনালে জামশেদপুরের মাঠে গিয়ে তাদের হারিয়ে শহরে ফিরে ইস্টবেঙ্গলের মতো দলকে সেমিফাইনালে হারিয়ে ফাইনালে নর্থইস্টের মুখোমুখি হয়েছিল ডায়মন্ড হারবার এফসি। শেষ হাসি অবশ্য হাসতে পারেনি বাংলার এই দল। পর পর দু’বার ডুরান্ড ফাইনালে পৌঁছেই ট্রফি নিয়ে ফিরল নর্থইস্ট ইউনাইটেড। এই কলকাতার মাঠ থেকেই গত মরসুমে মোহনবাগানকে হারানোর পর এই মরসুমে ডায়মন্ড হারবারকে হারিয়ে বাজিমাত উত্তরপূর্বের এই দলের। হেরে গেলেও ডায়মন্ড হারবারের কৃতিত্ব কোথাও ছোট হয়ে যায় না। বরং ডুরান্ডের সঙ্গেই নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে দিল বাংলার এই দল।
যেভাবে ডার্বির খেলাটা আর সেমিফাইনালে খেলতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। ঠিক সেভাবেই সেমিফাইনালের খেলাটা ফাইনালে দেখা গেল না ডায়মন্ড হারবারের। পর পর দুটো হাইভোল্টেজ ম্যাচ খেলা যে কঠিন তা আগের দিনই বলেছিলেন নর্থইস্ট কোচ জুয়ান পেদ্রো। আর সেটাকেই কাজে লাগিয়ে গেল তাঁর দল। প্রথম থেকেই এদিন ম্যাচের রাশ দখলে নিয়ে নিয়েছিল নর্থইস্ট। এদিন যুবভারতীর গ্যালারিতে তাদেরও সমর্থক কম ছিল না। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তৃতীয় গোল করে ডায়মন্ড হারবারের সব আশাই শেষ করে দিয়েছিল নর্থইস্ট। তার মধ্যে এক গোল শোধ করল ডায়মন্ড। ৩-১ করার পর শেষ মুহূর্তে আরও তিন গোল দিয়ে ৬ (আসির আখতার, পার্থিব গগোই, থইবা সিং, জাইরো, অ্যান্ডি আলাদিন,)-১ (লুকা) গোলে জিতে থামল নর্থইস্ট ইউনাইটেড। চ্যাম্পিয়ন হওয়া হল না বাংলার দলের। তাতে কী, স্বপ্ন দেখা চলবে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
