ছবি—ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ এক্স হ্যান্ডল
অলস্পোর্ট ডেস্ক: নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মাঠে ব্রাজিলের দল ফ্লুমিনেসকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্ব ক্লাব কাপের ফাইনালে গেল চেলসি। জোয়াও পেড্রোর দেওয়া জোড়া গোলে। রবিবার ফাইনালে এনজো মারেসকাসের দল চেলসি মুখোমুখি হবে রিয়েল মাদ্রিদ ও প্যারিস সেন্ট জার্মেনের বিজয়ীর সঙ্গে। অভিষেকেই বাজিমাত পেড্রোর। যে দলের হয়ে পেশাদার ফুটবল জীবন শুরু করেছিলেন, সেই ফ্লুমিনেসের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে চেলসিকে ফাইনালে তুলেছেন পেড্রো। তাঁর জন্যই ফাইনালটা অল ইওরোপিয়ান দলের মধ্যে হয়ে গেল।
পেড্রোর দেওয়া ১৮ মিনিটের গোলে এগিয়ে থাকলেও চেলসি চাপে পড়েছিল প্রতিপক্ষ ফ্লুমিনেস গোল শোধে মরিয়া ভাব দেখানোয়। হারকিউলিসের শট রবার্ট স্যাঞ্চেজকে পরাস্ত করে গোলে ঢোকার মুখে গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে চেলসির লিড অক্ষুন্ন রাখেন মার্ক কুকুরেলা। এরপর সাময়িক হলেও চেলসিকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল রেফারির দেওয়া পেনাল্টি সিদ্ধান্তে। চেলসি ডিফেন্ডার চালোবারের হাতে বক্সের ভেতর হাতে বল লাগলে রেফারি পেনাল্টি নির্দেশ দেন প্রথমে। পরে ভার রিভিউয়ের মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের বদল ঘটান। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল করায় যেখানে স্বস্তির নির্দেশ ফেলেন চেলসির ফুটবলাররা, সেখানে ফ্লুমিনেস শিবির চটে লাল হয়ে যায়। কিন্তু রেফারির সিদ্ধান্তই শেষ কথা। তাই মানতে তো হবেই।
ফ্লুমিনেস আরও চাপ বাড়িয়েছিল। মনে হয়েছিল চেলসি বুঝি সেই চাপে ভেঙে পড়বে। কিন্তু তা ঘটেনি। উল্টে ৫৬ মিনিটে জোয়াও পেড্রোর জোড়ালো শটের দ্বিতীয় গোলে ফ্লুমিন্সের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। জোড়া গোল করে চেলসিকে ফাইনালে তোলার পরও মন খারাপ পেড্রোর। ম্যাচের সেরা পেড্রোর প্রতিক্রিয়া, ‘ বলতে পারেন স্বপ্নের মতো শুরু এই ম্যাচে। ফাইনালে যাওয়া। এর থেকে আর ভাল কিছু আমি আশা করিনি। দুটো গোল, ফাইনালে খেলার সুযোগ, খুব খুশি। তবে আমার পুরোন দলের বিরুদ্ধে প্রথম গোল করার অনুভূতিটা আলাদা। ফ্লুমিনেসের জন্যও এই টুর্নামেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওদের বিরুদ্ধে গোল করে জেতায় খারাপ লাগছে। তাই গোল করেও কোনও বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখাইনি। কিন্তু এটাই পেশাদারিত্ব, চেলসি আমাকে বেশি পয়সা দিয়েছে গোল করতে। এখন আমাকে বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি ফাইনালের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে চেলসিতে যোগ দিয়েছি। এসেই ফাইনাল খেলছি। আমার জীবনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি জেতার লক্ষ্যে। ফোকাস ঠিক রাখা জরুরি।’
সেমিফাইনাল জয়ের পর চেলসি কোচ এনজো মারেসকার প্রতিক্রিয়া, ‘ ছুটি কাটিয়ে দলে যোগ দেওয়ায় বাকিদের তুলনায় অনেক বেশি তাজা লেগেছে পেড্রোকে ম্যাচে। এই ব্যাপারটা আমি পরবর্তী সময় মাথায় রাখব। পেড্রো একটু পিছন থেকে খেলছিল। এটা বেশি কার্যকরী হয়েছে। তাছাড়া অল্প জায়গায় ওর স্কিল প্রদর্শন নজর কেড়েছে।’
এই নিয়ে তৃতীয় বার বিশ্ব ক্লাব কাপের ফাইনালে খেলবে চেলসি। সেমিফাইনালে দলের পারফরমেন্স নিয়ে মারেসকার বক্তব্য, ‘ সত্যি বলতে এই মরশুমসটা দারুন যাচ্ছে। লিগের প্রথম চারের মাঝে থাকা। কনফারেন্সের লিগের পর বিশ্ব ক্লাব কাপ ফাইনালে ওঠা। এবার মরশুমের শেষ ম্যাচটা দিতে ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাই লক্ষ্য। আশা করি সে আশা পূর্ণ হবে।’ ফাইনালে পছন্দের কোনও প্রতিপক্ষ নেই মারেসকার। বলেন, ‘ চলতি মরশুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে পিএসজি, গত বছর জিতেছিল রিয়েল। সুতরাং দু’দলই সমান শক্তিশালী। আমাদের হিসেব কষে খেলতে হবে।‘ মারেসকার মুখে এনজো ফার্নান্ডেজ ও মোজেস কালসেডোর প্রশংসা। ম্যাচের শেষদিকে চোট পান কালসেডো। কিন্তু তাঁকে ফাইনালে প্রবলভাবে চাইছেন চেলসি কোচ।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
