Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ বহু প্রতীক্ষিত জাতীয় ক্রীড়া প্রশাসনিক বিল সোমবার লোকসভায় পাস হয়ে গেল। বিরোধী দলের সাংসদদের বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধন বিতর্ক ঘিরে প্রতিবাদের মাঝেই। ক্রীড়ানীতি বিষয়ক বিল পাস করা নিয়ে উচ্ছ্বসিত কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য। তাঁর মতে, ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের পর এটা একটা ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একইসঙ্গে ন্যাশানাল অ্যান্টি-‌ডোপিং সংশোধনী বিল লোকসভায় পাস হয়েছে।

সংবাদসংস্থাকে মান্ডব্য জানিয়েছেন, ‘‌ স্বাধীনতার পর ক্রীড়াক্ষেত্রে এতবড় রিফর্ম আর হয়নি। ক্রীড়াসংস্থায় সেরা পরিচালনার ক্ষেত্রে, সঠিক বিচার ও দায়বদ্ধতার বিযয়টা অনেক স্বচ্ছ হবে এর ফলে। স্পোর্টস ইকোসিস্টেমে এটা একটা বড় পদক্ষেপ। তবে এটাই দুর্ভাগ্য, এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের ক্ষেত্রে বিরোধীরা অংশগ্রহণ করলেন না।’‌ কথাটা ঠিক, যখন বিলটা লোকসভা বিলটা পেশ করেন মান্ডব্য, তখন বিরোধী সাংসদরা বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে শ্লোগান দিতে ব্যস্ত ছিলেন। সাময়িক বেরিয়েও যান ভবন ছেড়ে। শাসক পক্ষের দুই সাংসদ বিল নিয়ে ডিবেটে অংশগ্রহণের ফাঁকে আবার বিরোধী দলের সাংসদরা ভবনে ফেরেন।

এর আগে পার্লামেন্ট কমিটি অফ স্পোর্টসের চেয়ারম্যান দিগবিজয় সিং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে অনুরোধ করেন আলোচনার জন্য ক্রীড়া স্পোর্টস গর্ভনেন্স বিল সদনের সামনে রাখতে। যাতে সংসদে গ্রহণের আগে এটা নিয়ে ভালভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়, সকলের বোঝার জন্য। মান্ডব্য বলেন, ‘‌ জাতীয় ক্রীড়ানীতি বিল ও অ্যান্টি ডোপিং বিল দুটি ভারতীয় খেলাধুলোর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি গড়তে সাহায্য করবে। বিশেষ করে ভারত যেখানে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের জন্য বিড করতে তৈরি।১৯৭৫ সাল থেকে এই বিল পাসের চেষ্টা চলছে। ১৯৮৫তে প্রথমবার একটা খসড়া তৈরিও করা হয়। কিন্তু খেলাধুলোর জগতে ব্যক্তিগত স্বার্থে রাজনীতিকরণের কারণে, বিশেষ করে কয়েকজন মন্ত্রীর জন্য এই বিলটা পাস করার জায়গায় পৌঁছয়নি এতদিন। এর আগে ২০১১ তেও জাতীয় ক্রীড়ানীতি তৈরি হওয়ার ক্রীড়াবিল নিয়ে কেবিনেটে আলোচনার পর তা স্থগিত হয়ে যায়। সংসদ পর্যন্ত তা পৌঁছয়নি।’‌

মান্ডব্যর সাফ বক্তব্য,‘‌ এবার ক্রীড়বিল পাস হওয়ার ফলে সমস্ত জাতীয় ক্রীড়াসংস্থাগুলোকে ন্যাশানাল স্পোর্টস বোর্ডের স্বীকৃতি পেতে হবে কেন্দ্র সরকারের অনুদান পেতে। ন্যাশানাস স্পোর্টস বোর্ডের পুরো অধিকার থাকছে, সেই সমস্ত জাতীয় সংস্থার স্বীকৃতি বাতিল করার, যারা কার্যকরী কমিটি গড়তে বছরের পর বছর নির্বাচন করে না। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়াটা অনেক বড় বেনিয়ম। পাবলিক ফান্ডের অব্যবহার ও বার্ষিক অডিডেট অ্যাকাউন্টসের অনিয়ম ক্ষেত্রেও কড়া পদক্ষেপ নেবে ক্রীড়াসংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ন্যাশানাল স্পোর্টস বোর্ড।’‌

জাতীয় ক্রীড়াবিলের ক্ষেত্রে একটা বড় সংশোধন আনা হয়েছে। সেটা হল ক্রীড়াসংস্থার প্রশাসনে থাকার জন্য কর্তাদের বয়সের সীমার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বদল। যেটা এতদিন ছিল ৭০ বছর, সেটা বাড়িয়ে ৭৫ করা হচ্ছে। এর ফলে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেল, ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পদে প্রফুল প্যাটেলের মতো কর্তার নির্বাচনে লড়াই করার সুযোগ এসে গেল। তিনি নির্বাচনে লড়বেন কিনা, সেটা সময়ই বলবে। তবে এটা বলতে দ্বিধা নেই, ফেডারেশন সভাপতি পদে থেকে কল্যান চৌবে যেভাবে ভারতীয় ফুটবলকে অনেকধাপ পিছিয়ে দিয়েছেন, তাঁর জায়গায় প্রফুল প্যাটেল, অরবিন্দ মেননের মতো নতুন মুখ সভাপতি হিসেবে দেখা যেতেই পারে।

আর একটা আশার আলো দেখা যাবে, জাতীয় স্পোর্টস বিল লোকসভায় পাস হয়ে যাওয়ায়। ক্রীড়াবিল পাস থমকে থাকায় এতদিন সুপ্রিম কোর্টের আইনি জটে আটকে ছিল। সুপ্রিম কোর্টের ওপরই দায়িত্ব রয়েছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সংশোধিত সংবিধান তুলে ধরার। তার ভিত্তিতেই ফেডারেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা। সুপ্রিম কোর্ট সাফ বলেছিল, বর্তমান যে কমিটি ফেডারেশনের প্রশাসনে রয়েছে তারা ক্ষমতাহীন, তাদের কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেই। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলেই এআইএফএফ ও এফএসডিএলের মধ্যে মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্টের নবীকরণ নিয়ে এগোন সম্ভব হয়নি বলে আইএসএল অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত হয়ে রয়েছে। জাতীয় ক্রীড়াবিল পাস হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট চুড়ান্ত রায় দিলে ফেডারেশন নির্বাচনের মাধ্যমে দ্রুত নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করে আইএসএল আয়োজনের ক্ষেত্রে যা যা করা দরকার, তা করতে পারে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *