ইলিয়াস পাশার স্ত্রী ও কন্যার হাতে তুলে দেওয়া হল ১১ লাখ টাকার চেক। —নিজস্ব চিত্র
অলস্পোর্ট ডেস্ক: সময়টা ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি হলে কী হবে, শুক্রবারের সন্ধ্যায় ইস্টবেঙ্গল ক্লাব পৌঁছে গিয়েছিল সেই ৮০-৯০-এর দশকে। উপলক্ষ্য ছিল দুটো। একটি বর্তমান খেলাধুলোকে আরও খানিকটা এগিয়ে দিতে ক্লাব তাঁবুতেই তৈরি হওয়া নতুন অ্যাস্ট্রোটার্ফের উদ্বোধন আর সদ্য প্রয়াত ইলিয়াস পাশার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। প্রথম উদ্যোগটি ক্লাবের হলে, দ্বিতীয় উদ্যোগে ক্লাবের সঙ্গে পুরোপুরি যোগ দেন ক্লাবের প্রাক্তন ফুটবলাররা। কে ছিলেন না সেই তালিকায়। এদিন ক্লাব তাঁবুতে বসেছিল তারকার হাঁট। ভাইচুং ভুটিয়া থেকে ব্যারেটো, শিশির ঘোষ থেকে অসীম বিশ্বাস, সন্দীপ নন্দী থেকে শুভাশিস রায়চৌধুরী, সে এক দীর্ঘ তালিকা।
এদিন প্রথমে মঞ্চ থেকে ইলিয়াস পাশার স্ত্রী, কন্যার হাতে তুলে দেওয়া হয় চেক। সময়টা সবার জন্যই ছিল আবেগের। ইলিয়াস পাশার কন্যা থেকে শুরু করে ভাইচুং ভুটিয়া। স্মৃতি রোমন্থন করে ভাইচুং বলেন, “আমার প্রথম অধিনায়ক ছিলেন তিনি, তাই আমার কাছে তাঁর জায়গাটাই আলাদা। মাঠে ও মাঠের বাইরে আমাকে সারাক্ষণ সমর্থন করে গিয়েছে। আমি তখন পাহাড় থেকে এই শহরে আসা একটা বাচ্চা ছেলে আর ইলিয়াস পাশার তখন তারকা, তাও আমার পাশে থেকেছে বড় দাদার মতো।”
এর সঙ্গেই আফসোসটাও যে যাচ্ছে না ভাইচুংয়ের। বলছিলেন, “আমাকে হাসপাতাল থেকে ফোন করেছিল। আমি সঙ্গে সঙ্গেই সব ফুটবলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করি, আমরা তৈরিও হচ্ছিলাম কিন্তু এত দ্রুত চলে যাবে বুঝতে পারিনি। তাই ওর পরিবারের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নেই, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকেও পাশে পেয়ে যাই। পাশারভাই সব সময় আমাদের মনে থেকে যাবে একজন ভালো ফুটবলারের পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে।”

এদিন উদ্বোধন হওয়া অ্যাস্ট্রোটার্ফে পাশার স্মৃতির উদ্দেশ্যে দুটো সেভেন সাইড ম্যাচ খেললেন ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তনরা। যেখানে সবার আশায় জল ঢেলে দিয়ে ভাইচুং ও ব্যারেটোর দল একে অপরের বিরুদ্ধে খেললেও দু’জন খেললেন দুই অর্ধে। তবুও লড়াই হল হাড্ডাহাড্ডি। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়ল না শেষ পর্যন্ত। প্রথম ম্যাচ হল ইস্টবেঙ্গল লিজেন্ডস বনাম ইস্টবেঙ্গল অল স্টারের মধ্যে। যেখানে চন্দন দাসের একমাত্র গোলে জিতল লিজেন্ডসরা। যদিও দুই দলের সকলেই ছিলেন স্টার আর লিজেন্ডস।

তবে সব থেকে বেশি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গেল দ্বিতীয় ম্যাচে। এটাই তো ছিল ভাইচুং বনাম ব্যারোটোর লড়াইয়ের ম্যাচ। যেখানে ৫-০ গোলে জিতল ভাইচুংয়ের দল। এই ম্যাচ ছিল ইস্টবেঙ্গল বনাম ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একাই ২ গোল করলেন স্বয়ং বাইচুং। বাকি ৩ গোল করলেন সৌমিক দে, অ্যালভিটো ডি’কুনহা ও মহম্মদ রফিক। এই ম্যাচে খেলতে দেখা গেল মেহতাব হোসেন, মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু, বেনসন দেবদাস, দীপঙ্কর রায়, ষষ্ঠী দুলে, অসীম বিশ্বাস, রহিম নবি, সংগ্ৰাম মুখোপাধ্যায়। জোড়া ম্যাচে ব্যারেটো ছাড়াও খেললেন আর এক বিদেশি, সুলে মুসা। ম্যাচ শেষে তাঁকেও দেখা গেল ইলিয়াস পাশার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে। বলছিলেন, “এটাই জীবন একদিন আমাদের সবাইকে চলে যেতে হবে তবে পাশা বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেল। আল্লাহ তোমাদের শক্তি দিক।”
ইলিয়াস পাশার স্মৃতিতে এদিন ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ফিরে গেল অতীতে। সবার গায়ে উঠল ইস্টবেঙ্গলে পাশার ব্যবহৃত ১৭ নম্বর জার্সি। এই উদ্যোগে আরও একবার জীবন্ত হয়ে উঠলেন ইলিয়াস পাশা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
