Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী, ভুবনেশ্বর: কার্লেস কুয়াদ্রাত ইস্টবেঙ্গলের কাছে যেন হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা। যিনি প্রথম আগমনেই একটু একটু করে লাল-হলুদের গা থেকে ঝেঁড়ে ফেললেন ট্রফি না পাওয়ার হতাশাকে। প্রথম প্রচেষ্টায় ফাইনালে তুললেন আর দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় এক্কেবারে চ্যাম্পিয়ন। মরসুমের শুরু থেকে বার বার বলেছেন, একটু সময় চাই। ভাগ্যিস সেই সময়টা তাঁকে দিয়েছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। না হলে সাফল্য যে অধরাই থেকে যেত। আইএসএল থেকে সুপার কাপ দলকে টানা অপরাজিত রাখাটাও তো বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু কালো কোটের নিচে লুকিয়ে থাকা আদ্যপ্রান্ত ইস্টবেঙ্গল হয়ে যাওয়া মানুষটা আসলে সেই চেনা ফুটবল আবেগটাকে আবার ফিরিয়ে দিলেন লাল-হলুদ জনতার কাছে।

রবিবার ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে যে আবেগের সুর ১২০ মিনিট ধরে বাজতে দেখল ফুটবল দুনিয়া, তা তো এই বাঁশিওয়ালারই সৃষ্টি। বাংলার বাইরে যেভাবে ভরে উঠল ইস্টবেঙ্গল গ্যালারি তাতে এটা পরিষ্কার তাঁর সুরে সুর মেলাতে প্রস্তুত সবাই। তিনি ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। টানটান উত্তেজনা, পিছিয়ে পড়ে, সমতায় ফিরে, এগিয়ে গিয়ে আবারও সমতায় নেমে আসার মতো প্রতি মুহূর্তে বদলাতে থাকা একটা ম্যাচের উত্তেজনাকে একটু একটু করে নিজের মধ্যে হজম করছিলেন কুয়াদ্রাত। পুরো সুপার কাপে তাঁকে বার বার উত্তেজিত হতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু এদিন, তিনি যেন একদম অন্য মানুষ। জয়ের পরও সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়তে দেখা গেল না বরং শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে যখন স্টেডিয়াম জুড়ে শুধুই লাল-হলুদ ঝড় তখন শান্ত কুয়াদ্রাত এগিয়ে গেলেন প্রতিপক্ষ ওড়িশা এফসি কোচ সার্জিও লোবেরার দিকে। হাত মেলালেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন, তার পর এগিয়ে গেলের দলের দিকে। ওই যে মরসুমের শুরু থেকেই এঁদের নিয়েই তো স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছিলেন। আর আজ তাঁরাই তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে।

শুধু কি তিনি ডাার্বি জিতলেন বা সুপার কাপ জিতলেন? তিনি এই সুপার কাপ জয়ের সঙ্গেই ২০২৪-২৫ এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-র যোগ্যতা অর্জনও করলেন। প্রথম বছরেই একসঙ্গে একাধিক সাফল্য এনে দিলেন হ্যামলিনের এই বাঁশিওয়ালা। তবে ভুললেন প্রতিপক্ষের প্রশংসা করত। বলছিলেন, “যেভাবে একটা দল লড়াই করল, বিশেষ করে ১০ জনে হয়ে যাওয়ার পরও দলটা সমানভাবে খেলে গেল. ম্যাচ ২-২ করল। এই কৃতিত্ব অবশ্যই দিতে হবে লোবেরাকে। তিনি একজন অসাধারণ কোচ। তাঁকে অনেক শুভেচ্ছা।”

এটা ঠিক, যেভাবে দলটা লড়াই করল কোনও ভাবেই মনে হয়নি তারা ১০ জনে খেলছে। এবং সমানে সমানে একটা ম্যাচ হল সুপার কাপের ফাইনালে। যা থেকে স্পষ্ট যোগ্য দল হিসেবেই ইস্টবেঙ্গল ও ওড়িশা এফসি ফাইনালে পৌঁছেছিল। প্রতিপক্ষের পাশাপাশি সমর্থকদেরও প্রশংসা করতে ভুললেন না তিনি। বলছিলেন, “যেভাবে তারা ট্রেনে করে, বাসে করে আমাদের সমর্থন করতে এসেছিল তাতে এই জয় আমাদের দরকার ছিল। আমি সমর্থকদের কাছে কৃতজ্ঞ। এটা আমার ক্লাব, এটা আমাদের জয়।”

দলের প্লেয়ারদের প্রশংসা করতেও ভুললেন না তিনি। বলছিলেন, আমি দলকে আগেই বলে দিয়েছিলাম এই ম্যাচ ফ্রেশ লেগের। সেই মতোই পরিবর্তন করেছি। প্রথম দলে মন্দার আর বোরহাকে রেখেছিলাম। নন্ধা কুমারের এই সুপার কাপ খুব ভাল ছিল। ওকে পরিবর্তন করেছি। এই পরিস্থিতিতে নতুনদের জন্য সুযোগ। এছাড়াও আমি সবার খেলায় খুশি। সবাই ভাল খেলেছে। নন্ধারা জায়গায় নেমে বিষ্ণু দুটো ক্লিয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল।” তবে বিষ্ণুকে মাত্র ১০ মিনিটই মাঠে রেখেছিলেন তিনি।

সামনে আবার ডার্বি। আইএসএল-এর প্রথম পর্বের ডার্বি ৩ ফেব্রুয়ারি। মাঝে বেশি সময় নেই সেটা শুনে বেশ উচ্ছ্বসিতই দেখাল কুয়াদ্রাতকে। বললেন, ‘’হ্যাঁ, খুব বেশি সময় নেই। এখন আমরা এই জয় সেলিব্রেট করব তার পর ডার্বির জন্য প্রস্তুতি নেব। আমরা প্রস্তুত মরসুমরে তৃতীয় ডার্বি খেলার জন্য।। যেহেতু এবার ঘরের মাঠে ডার্বি হবে তাই আশা করছি অনেক সমর্থক থাকতে পারবেন।” তবে ফুটবলে বা খেলায় জয়টাই আসল। শেষ পর্যন্ত জয় এসেছে। বহু বছর পর জয় এসেছে। আপাতত এটাই উপভোগ করতে চান কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *