Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
এএফসি

অলস্পোর্ট ডেস্ক: আইএসএল ২০২৩-২৪-এর প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচে জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারবে কি না মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে সমর্থকদের মধ্যে, তখন দলের স্প্যানিশ কোচ হুয়ান ফেরান্দো ও দলের নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার অনিরুদ্ধ থাপা বলছেন, চেন্নাইন এফসি-র বিরুদ্ধে তাদের ঘরের মাঠে হারানো মোটেই সোজা কাজ নয়।

শনিবার মোহনবাগান এসজি যেমন চলতি লিগে তাদের প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে চলেছে, তেমনই চেন্নাইন এফসি তাদের ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচ খেলতে চলেছে। প্রথম দু’টি ম্যাচে তারা পাঁচ গোল খেয়ে এসেছে গুয়াহাটি ও ভুবনেশ্বরে গিয়ে। নিজেরা এখনও খাতা খুলতে পারেনি। ঘরের মাঠে নিজেদের সমর্থকদের সামনে তারা মরশুমের প্রথম জয় পাবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে মোহনবাগান কতটা প্রত্যয়ী হয়ে খেলতে পারবে তার ওপর।

এই ম্যাচের লক্ষ্য নিয়ে ফেরান্দো সাংবাদিকদের বলেন, “অ্যাওয়ে ম্যাচ আমরা এক পয়েন্টের লক্ষ্য নয়, তিন পয়েন্ট জিততেই নামব। এই লিগে সব দলই কঠিন প্রতিপক্ষ। সবাই ভাল খেলছে। ফলে চেন্নাইনের বিরুদ্ধেও আমাদের তিন পয়েন্ট পেতে হবে”।

কিন্তু চেন্নাইনের ঘরের মাঠে তাদের হারানো কঠিন বলে মনে করেন ফেরান্দো। তিনি বলেন, “গত কয়েকটা ম্যাচ দেখলে বুঝবেন, ঘরের মাঠে দলগুলো জিতছে। কিন্তু বাইরে গিয়ে পুরো পয়েন্ট পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমরা ঘরের মাঠে দুটো ম্যাচে জিতে ওখানে যাচ্ছি। শনিবার প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচ আমাদের। চেন্নাইন এফসি ওদের নিজেদের মাঠে প্রথম ম্যাচ খেলবে। মনে হয় ঘরের মাঠে ওরা আগ্রাসী ফুটবলই খেলবে। আমাদের খুঁটিনাটি অনেক জিনিস নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ওরা উচ্চাকাঙ্খী দল। দুটো ম্যাচে জেতার পর আমাদের দলও অবশ্য ভাল খেলবে। আশা করি, দুই দলে মধ্যে ভাল লড়াই হবে”।

গত পাঁচ মরশুম চেন্নাইন এফসি -তে কাটিয়ে এ বছরই মোহনবাগানে আসা অনিরুদ্ধ থাপাও কোচের মতোই মনে করেন, নিজেদের মাঠে সহজে হাল ছেড়ে দেবে না চেন্নাইন এফসি। তিনি বলেন, “ওদের দল ভাল, কোচও ভাল। ওরা দুটো ভাল দলের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলে এসেছে। ঘরের মাঠে নিজেদের সমর্থকদের সামনে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে। ওরা ম্যাচটা জিততেই চাইবে। ম্যাচটা কঠিন হবে ঠিকই। কিন্তু আমরা জানি, আমাদের কী করতে হবে”।

দক্ষিণের দলের হয়ে ১২৫টি ম্যাচ খেলেছেন থাপা। মাঝমাঠ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। চেন্নাইনের হয়ে মোট ১২টি গোল করেছেন এবং ১৭টি গোলে অ্যাসিস্টও করেছেন। গত আইএসএল মরশুমে ১৬টি ম্যাচ খেলে দুটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেন থাপা। ডুরান্ড কাপেও পাঁচটি ম্যাচে দুটি গোল করেন। এ বার সেই চেন্নাইনের বিরুদ্ধেই তাঁকে মাঠে নামতে হবে।

এত বছর যে মাঠকে ঘরের মাঠে বলে মনে করে এসেছেন, সেই চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এ বার বিপক্ষের হয়ে নামার অনুভূতি কেমন, তা জানতে চাওয়া হলে থাপা বলেন, “চেন্নাইনে আমি অনেক বছর খেলেছি। তাই ওদের বিরুদ্ধে মাঠে নামাটা কঠিন ঠিকই। কিন্তু পেশাদার হিসেবে এটা আমাকে করতেই হবে। এখন আমি মোহনবাগানের ফুটবলার, সবুজ-মেরুন জার্সির সন্মান রাখতেই মাঠে নামব। দল কী চায়, তা জানি। চেন্নাইয়ে কী জন্য যাচ্ছি, তাও সবাই জানে। আমাদের সবাইকেই তা মাথায় রাখতে হবে”।

মরশুমের শুরু থেকে দশটির বেশি ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে তাদের। এখনও দলের সেরা কম্বিনেশন পাননি বলে মনে করেন কোচ ফেরান্দো। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দলের সেরা লাইন-আপ বাছা খুবই জরুরি। তবে আমি অতীতের দিকে তাকিয়ে সেটা করি না। বর্তমান পরিস্থিতি ও ফর্ম দেখে করি। আমাদের সামনে একটা কঠিন ম্যাচ। আর কঠিন ম্যাচে খেলতে গেলে খেলোয়াড়দের শারীরিক দক্ষতার সঙ্গে মানসিক অবস্থাও সঠিক জায়গায় থাকা দরকার। উজ্জীবিত থাকতে হয়। আমার কাছে এগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ সব দেখেই দল গড়ি আমি”।

মরশুমের শুরুর দিকে স্বাভাবিক ছন্দে না থাকলেও ক্রমশ নিজের স্বাভাবিক ফর্ম ফিরে পাচ্ছেন থাপা। নতুন দলে যোগ দিয়ে যে তাদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে একটু সময় লেগেছে, তা স্বীকার করে নিয়ে ভারতীয় দলের নিয়মিত সদস্য বলেন, “নতুন দলে এসে সতীর্থদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে একটু সময় লেগেছে ঠিকই। দলের অর্ধেক ফুটবলারদের যদিও আমি চিনি। তারাই আমাকে প্রচুর সাহায্য করেছে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। এখন মানিয়ে নিতে পেরেছি। নিজের স্বাভাবিক খেলাটাও খেলতে পারছি। সামনে অনেক ম্যাচ আছে। ক্রমশ নিজেকে আরও ভাল জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব”।

শনিবারের ম্যাচের পর দীর্ঘ (প্রায় দু’সপ্তাহের) বিশ্রাম পাবে তাঁর দল। যদিও দলের বেশ কয়েকজন চলে যাবে ভারতীয় শিবিরে। এই দীর্ঘ ছুটিতে দলের অন্যদের নিয়ে অনুশীলন করতে চান ফেরান্দো। তবে সার্বিক ভাবে তাতে দলের কতটা লাভ হবে, সেই নিয়ে কিছুটা হলে ধন্দে আছেন সবুজ-মেরুন কোচ। এই প্রসঙ্গে তিনি এ দিন বলেন, “এই ম্যাচের পরে যে দীর্ঘ ছুটি পাব, তাতে কতটা লাভ হবে জানি না। কারণ, দলের সাত-আটজন তখন ভারতীয় শিবিরে চলে যাবে, আমাদের সঙ্গে তো তাদের পাব না। যে কয়েকজন থাকবে তাদের নিয়ে কিছু খুঁটিনাটি বিষয়ে কাজ করতে হবে। কিন্তু যারা তখন আমাদের শিবিরে থাকবে না, তাদের অসুবিধা হতে পারে। জানি না কতটা সুবিধা হবে তাতে। তবে যারা থাকবে, তাদের নিয়ে তো অনুশীলন করতেই হবে”।

প্রতি মরশুমেই তাঁর সিস্টেম বদলানোর প্রভাব দলের খেলোয়াড়দের ওপর কী ভাবে পড়ছে, তা জানতে চাইলে ফেরান্দো বলেন, “কোন সিস্টেমে খেলা হচ্ছে, সেটা আমার কাছে বড় কথা নয়। আমার কাছে সেটা কার্যকরী করাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মাঠের মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, জায়গা তৈরি করা, এগুলো বেশি জরুরি। সিস্টেম একরকম আসে, আবার পাল্টায়, এটা হতেই থাকে। এই নিয়ে বেশি ভেবে লাভ নেই”।

তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী ম্যাচ চলাকালীন পরিকল্পনা বদলানোর পক্ষপাতী স্প্যানিশ কোচ। তিনি বলেন, “এটা সব ম্যাচে করতেই হয়। ব্যাপারটা অনেকটা নির্ভর করে প্রতিপক্ষ কেমন খেলছে, তার ওপরও। পরের ম্যাচেও আমাদের তা-ই করতে হবে। জেতার জন্য ও তিন পয়েন্ট পাওয়ার জন্য যা যা করা দরকার, সবই করতে হবে আমাদের”।

এই সিস্টেম বদল ও পরিকল্পনায় পরিবর্তনের সঙ্গে কী ভাবে মানিয়ে নেন, জানতে চাইলে অনিরুদ্ধ থাপা বলেন, “যে কোচ যে রকম নির্দেশ দেন, আমি তাঁর সেই নির্দেশ মেনেই খেলার চেষ্টা করি। আমার কাজ দলকে সাহায্য করা। কোচ যে ভাবে আমাকে দিয়ে তা করাতে চান, সেভাবেই করার চেষ্টা করি। আমার কাছে ব্যাপারটা এ রকমই”। শনিবার চেন্নাইনের বিরুদ্ধে তাঁরা কোন সিস্টেমে, কী পরিকল্পনা নিয়ে নামবেন, সেটাই এখন দেখার।

(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *