ডায়মন্ড হারবার ২( রুয়াতকিমা, লুকা) মহমেডান ১(এডিসন)
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: লুকা মাজশেনের ওস্তাদের মার শেষ রাতে। মনে হয়েছিল অপেক্ষাকৃত অনেকটাই শক্তিশালী ডায়মন্ড হারবারের বিরুদ্ধে যুবভারতীতে সোমবার ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচে দাঁড়াতেই পারবে না বিদেশীহীন মহমেডান। কিন্তু লড়াই করে ফারাকটা যে ঘুচিয়ে ফেলা যায়, সেটা দেখিয়ে দিয়েছিল সাদা কালো ব্রিগেড। অদম্য জেদের জোরে মূল্যবান ১ পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়ার জায়গায় প্রায় পৌঁছে গিয়েছিল মহমেডান ৯৮ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ ১-১ ড্র রেখে। আইলিগ টু-তে চ্যাম্পিয়ন কিবু ভিকুনার ডায়মন্ডের বিরুদ্ধে ঘরোয়া ও ইন্টারন্যাশানাল ব্যানের আওতায় থাকা সমস্যায় জর্জরিত মহমেডান ড্র করলে সেটা নৈতিক জয় বললেও ভুল হত না। কিন্তু কথায় বলে, খেলার শেষ বাঁশি বাজা না পর্যন্ত ফল নিয়ে ভাবা শেষ কথা বলা যায় না। সেটাই ঘটল। ৯৯ মিনিটে লুকা মাজসেনের গোলে মহমেডানের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে জিতে ডায়মন্ড হারবার ডুরান্ড কাপের নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা জাগালো ডায়মন্ড।
মহমেডান কোচ মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু কোনরকম চমকের পথে হাঁটেননি। তিনি ঝুঁকিহীন ৪-৩-৩ ছকে দল সাজিয়ে ডায়মন্ডকে রোখার চেষ্টা চালিয়ে গেলেন আগাগোড়া। তাতে জয় না আসুক, সম্মানজনক ড্র করতে পারলে প্রশংসা কুড়োতেন। নজর কাড়া ফুটবল খেললেন থকচম এডিসন সিং। ৩৭ মিনিটে অ্যাশলি কোলির বল ধরে ডানপ্রান্ত ধরে উঠে বক্সের সামনে পৌঁছে জোরালো গড়ানো শট নিলে ডায়মন্ডের মেলরয়ের বাড়ানো পায়ের পাশ দিয়ে গোলকিপার মিরশাদের হাতে লেগে জালের ভেতর জড়িয়ে যায়। প্রথমার্ধের শেষমিনিটে কোলির মাইনাস বক্সের মাঝে পা ছোঁয়াতে পারলে এডিসন দ্বিতীয় গোল পেতেন। ডায়মন্ড আরও চাপে পড়ত।
তবে কথায় আছে, বিরতিতে নিজেদের মাইনে কামান কোচরা। কিবু ভিকুনা সেটাই আবার প্রমাণ করে দিলেন। ৩-৪-৩ ছকে খেলা শুরু করা কিবু নিজের কৌশল বদলে চলে যান ৪-৩-৩ ছকে। শুধু তাই দলের বিদেশি ক্লেটনের ফিটনেসের অভাব তাঁর নজরে আসে। সেটা বুঝেই দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ক্লেটনের জায়গায় আনেন লুকা মাজশেনকে। তাতেই বাজিমাত। ৫১ মিনিটে নরহরি শ্রেষ্ঠার বদলি হিসেবে নামা স্যামুয়েলের কর্ণারে সাইরুয়াতকিমা হেডে গোল করে সমতা ফেরান ডায়মন্ডের পক্ষে।
তারপরও অবশ্য লড়াই ছাড়েনি মহমেডান। ৮৩ মিনিটে মহমেডানের সজল বাগের শট পোস্টে লেগে না ফিরলে, ম্যাচের ফল অন্যরকম হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। কিন্তু বিধি বাম। সারাক্ষণ দুরন্ত লড়েও মহমেডানের হার শেষমুহূর্তের ভুলে। রেফারি লক্ষ্যয় ৮ মিনিট সংযুক্তি সময় দিয়েছিলেন দ্বিতীয়ার্ধে। সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করল ডায়মন্ড। স্যামুয়েলের থ্রু বক্সের মাঝে লুকার কাছে গেলে তিনি শট নিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্য একেই বলে। শটটা সারা ম্যাচে ভাল খেলা মহমেডান গোলকিপার শুভজিত ভট্টাচার্যের গায়ে লেগে ফেরত এলে তা সাদা কালো ডিফেন্ডার দীনেশ মিতেইয়ের পায়ে লেগে আবার লুকার কাছে চলে যায়। লুকা ফাঁকা গোল বল ঠেলে ডায়মন্ডকে জেতাতে ভুল করেননি।
ডায়মন্ড হারবার: মিরশাদ, নরেশ, মেলরয়, রুয়াতকিমা, আঙ্গুসানা, পল, অজিতকুমার, গিরিক, নরহরি(স্যামুয়েল), ক্লেনটন(লুকা), জবি(হোলি)।
মহমেডান: শুভজিত, দীনেশ, সিংসন, লালমুনপুইয়া, সাজ্জাদ, সজল, যশ(ম্যাক্সিয়ন), রঘুই, অ্যাশলে, এডিসন, লালথাংকিমা(শাকা)।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
