Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

সুচরিতা সেন চৌধুরী, ভুবনেশ্বর: ডার্বির ভুবনেশ্বর যে রঙ বদলাবে তা নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না। বাংলার সব রাস্তাই এদিন এসে মিশেছিল এই কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে। যদিও দুরত্ব আর ট্রেন টিকিটের অভাব অনেককেই পৌঁছতে দেয়নি ডার্বির আসরে কিন্তু মনটা পড়ে ছিল এখানেই। যারা পৌঁছেছিলেন তাঁরাই যেন বার্তাবাহকের কাজ করছিলেন। আরও একটা ডার্বি চলছিল কলকাতা তথা বাংলার বিভিন্ন কোণায়। সকলেই হৃদয়টা যেন মুঠোয় ধরে বসেছিলেন। একটু একটু করে ডার্বির উত্তেজনায় কাঁপতে শুরু করে অন্য রাজ্যের স্টেডিয়াম। দুই দলের সমর্থকদের হুঙ্কারে রীতিমতো গমগম করছিল কলিঙ্গ। একটা করে গোল আর তার সঙ্গে উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ। শেষ হাসি হাসল ইস্টবেঙ্গল।

কলিঙ্গ সুপার কাপ ডার্বির প্রথম ২০ মিনিট পুরোপুরি ছিল মোহনবাগানের দখলেই। যার মধ্যেই প্রথম গোল। ১৯ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল বক্সের মধ্যেই ইউয়েস্তের ব্যাকহিল চলে যায় মোহনবাগান গোলে। এবার কিছুটা ব্যাকফুটে থেকেই খেলতে নেমেছিল মোহনবাগান। কিন্তু গোলের শুরুাটা করে দিয়েছিল তারাই। ম্যাচের দুই মিনিটেও গোলের মুখ খুলে ফেলেছিল মোহনবাগান কিন্তু তা অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। মোহনবাগান গোল পাওয়ার পর থেকেই খেলার দখল নিতে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। যার ফল ক্লেটন সিলভার অসাধারণ গোল। তাঁর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি মোহনবাগান।

২৪ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলকে সমতায় ফেরান ক্লেটন। যার সঙ্গে ডার্বিতে প্রথম গোল করে ফেললেন তিনি। বক্সের বাইরে পাওয়া উড়ে আসা এক অসহায় বলকে যে এভাবে গোলে রূপান্তরিক করা যায় তা হয়তো ক্লেটনের এই গোল না দেখলে বোঝা সম্ভব ছিল না। বক্সের মধ্যে কিছুটা আনাড়ি বলের আদান-প্রদানের পর উড়ে আসা বলে বক্সের বাইরে থেকে ক্লেটনের দুরন্ত শট আটকানোর কোনও সুযোগই পাননি মোহনবাগান গোলকিপার অর্শ।

প্রথমার্ধেই ২-১ করে ফেলতে পারত মোহনবাগান। কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি আদায় করে নিয়েও গোল পাওয়া হল না। পেনাল্টিতে শট নিয়েছিলেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। গোলও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু গোল বাতিল করে রিটেক দেন রেফারি। কারণ সময়ের আগেই পা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন হুগো বুমৌস। তার জন্য বাতিল হয় সেই গোল। পরের শটটা আটকে যায় পোস্টে। খেলা শেষের বাঁশি বাজিয়ে দেন রেফারি। প্রথমার্ধ শেষ হতেই মাঠে ঢুকে সোজা রেফারির কাছে চলে যান ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। তার পরই তাঁকে হলুদ কার্ড দেখতে হয়।

দ্বিতীয়ার্ধেও তাঁর সেই উত্তেজনা কমেনি। সব অ্যাকশনেই তাঁকে প্রতিক্রিয়া দিতে দেখা যাচ্ছিল। তার মধ্যেই অবশ্য দ্বিতীয় গোল পেয়ে গেল তাঁর দল। তার পর কিছুটা শান্ত হলেন তিনি। ৬৩ মিনিটে বক্সের ডানদিক থেকে বোরহা হেরেরার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পোস্টে লাগে। সেই পোস্টের সামনেই ছিলেন এই মরসুমে ডুরান্ডের মঞ্চে প্রথম ডার্বি জয়ের নায়ক নন্ধা কুমার। সেই ফিরতি বলকে ছোট্ট টোকায় গোলে পাঠাতে ভুল করেননি তিনি। এই নিয়ে একই মরসুমে জোড়া ডার্বি গোল করে ফেললেন নন্ধা।

আর এই ডার্বিতেই প্রথম গোলের পাশাপাশি দ্বিতীয় ডার্বি গোল পেয়ে গেলেন ক্লেটন সিলভা। ম্যাচের বয়স তখন ঠিক ৮০ মিনিট। মাঝ মাঠ থেকে বক্সের মধ্যে লম্বা ক্রস বাড়িয়েছিলেন বোরহা। ডানদিক থেকে সেই বলেই হেড করে গোলে রেখেছিলেন হিজাজি কিন্তু কোনওরকমে সেই বল বাঁচিয় দেন মোহনবাগান গোলরক্ষক তবে সেই বল দখলে রাখতে পারেনি তাঁর হাত। ছিটকে আসা বলে ক্লেটনের শট চলে যায় গোলে। ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। আট মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে আরও একবার গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলের পিভি বিষ্ণু ও অজয় ছেত্রী কিন্তু তা থেকে গোল আসেনি।

ইস্টবেঙ্গল: প্রভসুখন সিং গিল, নিশু কুমার, হিজাজি মেহের, অ্যান্তোনিও পার্দো লুকাস, মহম্মদ রাকি, নন্ধা কুমার, সল ক্রেসপো, শৌভিক চক্রবর্তী, বোরহা হেরেরা (অজয় ছেত্রী), সিভেরিও তোরো (পিভি বিষ্ণু), ক্লেটন সিলভ।

মোহনবাগান: অর্শ আনয়ার শেখ, রাজ বাসফোর (রবি রানা), ব্রেন্ডন হামিল (সুমিত রাঠি), হেক্টর ইউয়েস্ত, আশিস রাই, কিয়ান নাসিরি, হুগো বুমৌস, গ্লেন মার্টিন্স (জেসন কামিন্স), অভিষেক সূর্যবংশী, আর্মান্দো সাদিকু (সুহেল ভাট), দিমিত্রি পেত্রাতোস।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *