অলস্পোর্ট ডেস্ক: আইএসএলের মিডিয়া রাইটসের জন্য গ্লোবাল টেন্ডার ডেকেছে এআইএফএফ। বিডারদের জন্য সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে ১ ফেবরুয়ারি পর্যন্ত। আইএসএল ক্লাব প্রতিনিধি, ফেডারেশন কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য জানান, ১৪ ক্লাব নিয়ে ১৪ ফেবরুয়ারি থেকে শুরু হবে ২০২৫-২৬ মরশুমের দেশের সর্বোচ্চ লিগ। একদফা সুইশ মডেল ফরম্যাটে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে ম্যাচ খেলানোর সিদ্ধান্ত হয় সময়ের অভাবে। একইসঙ্গে ব্রডকাস্টিং ও কমার্শিয়াল পার্টনার ঠিক করার কথাও বলা হয়েছিল ওই বৈঠকে লিগ পরিচালনার সুবিধার্থে। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য আইএসএল ম্যাচ সম্প্রচারের জন্য দূরদর্শনের কথা জানালেও, সেটা লাভজনক হত না, তাদের কাছ থেকে কোনও টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায়। তাছাড়া গ্লোবাল টেন্ডার ছাড়া কাউকে মিডিয়া রাইটস দেওয়া সম্ভব হত না। আর দূরদর্শনের মতো সরকারি সংস্থা কোনও বিড প্রসেসে অংশ নিতেও পারে না নিয়মমাফিক।
ব্রডকাস্টিং পার্টনার বা মিডিয়া রাইটসের জন্য গ্লোবাল টেন্ডার ডাকা হলেও কমার্শিয়াল পার্টনার ঠিক করার ব্যাপারে এখনও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি এআইএফএফ। অন্তত ২০২৫-২৬ মরশুমের জন্য। তারা পরবর্তী ২০ বছরের জন্য কমার্শিয়াল পার্টনার ঠিক করার বেশি আগ্রহী। মিডিয়া রাইটস ঠিক করার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত রাখা হয়েছে। মূলত যারা ১০ কোটি টাকা দিতে রাজি থাকবে, ৩ বছরের স্পোর্টস ব্রডকাস্টিং অভিজ্ঞতা, ২ বছর পেশাদার লিগ সম্প্রচারের অভিজ্ঞতা আছে, সেই বিডারকেই বেছে নেওয়া হবে। ৯১ টি ম্যাচ সম্প্রচারের দায়িত্ব তাদের নিতে হবে। সেটা টিভি ও ডিজিটাল/ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
কোন বিডার দায়িত্ব পাবেন ম্যাচ সম্প্রচারের, সেটা জানা যাবে ১ ফেবরুয়ারির পর, কিন্তু আইএসএল সূচী চুড়ান্ত করার বিষয়টি আটকে রয়েছে মাঠ পাওয়ার সমস্যার কারণে। ভেনু ও সূচী চুড়ান্ত করার আইএসএল ও এআইএফএফ অপারেশনাল কমিটি, যার দায়িত্বে রয়েছে ক্লাবগুলো। তারা বেশ ফাঁপরে পড়ছে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোর অধিকাংশের ম্যাচ খেলার জন্য মাঠ তৈরি না থাকায়। শুধুমাত্র মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও এফসি গোয়ার গোটা লিগের জন্য হোম মাঠ রেডি আছে। বাকি দলগুলোর হোম মাঠে খেলার বিষয়টা এখনও স্পষ্ট নয় নানা কারণে। সেটা রাজনৈতিক সমাবেশ হোক, বা বিভিন্ন বিনোদন সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের কারণে। এর ফলে কোন দলের ম্যাচে কোন সময় দিলে খেলা করানো যাবে, তা এখনও বুঝে উঠতে পারছে না সূচী নির্ধারণ কমিটি। অনেক ক্লাব তো আবার আর্থিক খরচের কারণে ঘরের মাঠে ম্যাচ খেলতেই চাইছে না। তারা কমিটির কাছে শুধু অ্যাওয়ে ম্যাচ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। তবে সবারই কোনও না কোনও সমস্যা থাকবেই। সেটা মাথায় রেখেই একটা সমঝোতাসূত্র বের করতে চেষ্টা করছে ক্লাবগুলো সূচী চুড়ান্ত করতে।
শোনা যাচ্ছে, অন্য দলগুলোর মাঠ সমস্যার কারণে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ বেশি দেওয়ার ভাবনা চিন্তা রয়েছে শুরুতে। খসড়া সূচীতে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে ডার্বি ম্যাচ রাখা হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরুর দিনে। ওইদিন গোয়ার মাঠে ইন্টার কাশীর মুখোমুখি হতে পারে এফসি গোয়া। তবে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল প্রথম ম্যাচটাই ডার্বি হিসেবে খেলতে রাজি হবে কিনা সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। তারা ডার্বিটা দু’তিন ম্যাচ পর চাইছে খেলতে চাইছে। যদিও এই দু’দল আইএসএল শুরু নিয়ে ডামাডোলের মাঝেও নিজেদের প্রস্তুতি চালিয়ে গেছে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
