সুচরিতা সেন চৌধুরী: ওড়িশার বিরুদ্ধে আইএসএল ২০২৩-২৪-এর ম্যাচ খেলতে নামার আগেই বড় ধাক্কা খেল মোহনবাগান শিবির। ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপ করতে নেমে চোট পেয়ে অন্তত এদিনের ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন হুগো বুমৌস। প্রাথমিকভাবে যখন প্রথম ১১ জমা দেওয়া হয়েছিল তখন প্রথম দলেই ছিলেন তিনি। কিন্তু দল যখন মাঠে নামল তখন সেখানে তাঁর জায়গায় জেসন কামিংস। মোহনবাগানের চোটের তালিকায় দিমিত্রি পেত্রাতোস, মনবীর সিং, আনোয়ার আলি, হুগো বুমৌসদের সঙ্গে যুক্ত হল আরও নাম। হুয়ান ফেরান্দোর মাথায় হাত পড়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই। প্রথমার্ধের শেষে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন সাহাল আর দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্ত হিসেবে নামা গ্লেন মার্টিন্স, অনিরুদ্ধ ছাপা, কিয়ান নাসিরি। সব মিলে চোটে জর্জরিত মোহনবাগান শিবির শেষ পর্যন্ত আইএসএল-এ অপরাজিত তকমা ধরে রাখল। শেষ মুহূর্তে গোল শোধ করে ২-২ করে মাঠ ছাড়ল হোম টিম।
বুধবার শুরু থেকেই এদিন কোথাও যেন আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছিল পুরো দলটা। মিস পাস, গোলের সামনে গিয়ে মাথার উপর দিয়ে বল বাইরে পাঠানোর পাশাপাশি রক্ষণের হতশ্রী অবস্থা। আনোয়ার আলি চোট পাওয়ার পর থেকেই দলের রক্ষণের তালমেল রীতিমতো ভেস্তে গিয়েছে। যার প্রমান পাওয়া গেল এদিনও। রক্ষণকে ঘাঁড়ে নিয়েই গোল করল ওড়িশা। প্রথম গোল অবশ্য এল পেনাল্টি থেকে।
৩০ মিনিটে বক্সের মধ্যে বল হাতে লাগিয়ে ওড়িশাকে পেনাল্টি পাইয়ে দেন অধিনায়ক শুভাশিস বোস। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি ওড়িশার আহমেদ জোহু। দ্বিতীয় গোলও তাঁর। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে বক্সের বাইরে সামাদের পা থেকে বল কেড়ে বক্সের মধ্যে সাজানো বল পেয়েছিলেন ওড়িশার ১০ নম্বর তারকা। চলতি বলেই শট সরাসরি গোলে পাঠান তিনি। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে ওড়িশা এফসি। গত ২৭ নভেম্বর এই ওড়িশাই যুবভারতী ছেড়েছিল এএফসি কাপের ম্যাচে মোহনবাগানকে পাঁচ গোল দিয়ে। যেন যেখানে ছেড়ে গিয়েছিল সেখান থেকেই এদিন শুরু করল ওড়িশা।
মোহনবাগানের হয়ে সাদিকু একাই মিস করলেন নিশ্চিত দুটো গোল। প্রথমার্ধে একটি ও দ্বিতীয়ার্ধে একটি নিশ্চিত সুযোগ গোলকিপারকে সামনে একা পেয়েও ক্রসবারের উপর দিয়ে বাইরে পাঠালেন। ৫৮ ও ৯৪ মিনিটে অবশ্য জোড়া গোল করে সেই ভুল শুধরে নিলেন সাদিকু। মাঝমাঠ থেকে কিছুটা এগিয়ে লম্বা পাস রেখেছিলেন হামিল। বক্সের ডানদিকে সেই বল ধরে সাদিকুকে সাজিয়ে দিয়েছিলেন কিয়ান নাসিরি। এবার আর ভুল করেননি তিনি। হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ম্যাচের শেষে জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন দলের ডিফেন্ডাররা। এদিন অবশ্য মান বাঁচালেন সাদিকু। দ্বিতীয় গোলও সেই হামিলের হেড থেকে সাদিকুর শট। মান বাঁচাল ঠিকই কিন্তু দলের খেলা চিন্তা বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট।
রক্ষণ থেকে মাঝমাঠ, দলের বোঝাপড়া থেকে গোলের খিদে কোনওটাই এদিন খুঁজে পাওয়া গেল না মোহনবাগানের খেলায়। নাকি ওড়িশার সামনে কোথাও গুটিয়ে গিয়েছিল দলটা? এই মুহূর্তে রীতিমতো দুরন্ত ছন্দে রয়েছে সার্জিও লোবেরার দল। এএফসি কাপ থেকে আইএসএল, বলে বলে প্রতিপক্ষকে মাত দিচ্ছে। সেই তালিকায় জোড়া হারে নাম লেখাতে হল না শেষ পর্যন্ত ফেরান্দোর মোহনবাগানকে। শেষবেলায় ওড়িশার শট পোস্টে না লাগলে ম্যাচ ৩–২ হতে পারত। তবে এদিন ভাগ্যকে নিশ্চই ধন্যবাদ দেবেন ফেরান্দো।
মোহনবাগান: বিশাল কেইথ, শুভাশিস বোস, ব্রেন্ডন হামিল, হেক্টর ইউয়েস্তে, আশিস রাই, লিস্টন কোলাসো, সহাল আব্দুল সামাদ (গ্লেন মার্টিন্স) (দীপক টাংরি), জেসন কামিংস, অনিরুদ্ধ থাপা (লালরিনলিয়ানা হামতে), কিয়ান নাসিরি (সুহেল আহমেদ ভাট), আর্মান্দো সাদিকু।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
