মুনাল চট্টোপাধ্যায়: অবশেষে আইএসএল সূচী তৈরি নিয়ে জট কাটার মুখে। যে খসড়া সূচী তৈরি হয়েছে, তাতে আগের ভাবনা মতো ১৪ ফেব্রুয়ারি , প্রেম দিবেসে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে কলকাতা ডার্বি দিয়ে আইএসএলের সূচনা হচ্ছে না। কারণ শুরুতেই হাইভোল্টেজ ম্যাচ হয়ে গেলে লিগের আকর্ষণ নষ্ট হবে বলেই মনে করছেন সূচী তৈরির দায়িত্বে থাকা ক্লাবের প্রতিনিধিদের মিলিত কমিটি। তার বদলে খসড়া সূচী আনুযায়ী কলকাতায় আইএসএলের শুরুর দিনের ম্যাচে ১৪ ফেবরুয়ারি মুখোমুখি হবে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও কেরালা ব্লাস্টার্স। ওই একইদিনে এফসি গোয়া খেলবে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে। তার দু’দিন বাদে কলকাতাতেই ১৬ ফেব্রুয়ারি ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড। এর মাঝে ইস্পাতনগরীর মাঠে ১৫ ফেবরুয়ারি জামশেদপুরের মুখোমুখি হবে মহমেডান। ডার্বির সম্ভাব্য তারিখ রাখা হয়েছে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। মেগা ডার্বি ৩ মে হতে পারে।
এআইএফএফ আগেই জানিয়েছিল, যেহেতু আইএসএলের অপারেশনের ভার ১৪টি অংশগ্রহণকারী ক্লাবে তুলে নিয়েছে, তারাই সূচী চুড়ান্ত করবে। কিন্তু সূচী ঠিক করার কাজটা মোটেই সহজ ছিল না। তার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল ম্যাচ আয়োজনের জন্য মাঠ পাওয়া। সূচী তৈরি করতে গিয়ে দেখা যায়, মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ও গোয়া ছাড়া কারোর মাঠ তৈরি নয়, বলা ভাল, দলগুলোর হাতে নেই খেলার জন্য। মহমেডান, ওড়িশা ও ইন্টার কাশী যেমন সূচী তৈরির সময় থেকে বলে আসছে, তারা হোম ম্যাচ খেলতে আগ্রহী নয়। এক, তাদের মাঠ পাওয়ার সমস্যা, দুই হোম ম্যাচ খেলার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা তাদের নেই। কেরালা ব্লাস্টার্সেরও মাঠ রেডি নেই। তাদের কোচিতে খেলার সম্ভাবনা কম। তাদের খেলা কোঝিকোড়ে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বাকিদেরও নানা সমস্যা রয়েছে হোম গ্রাউন্ড পেতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকায়।
কলকাতায় যুবভারতী বা কিশোরভারতী স্টেডিয়াম নিতে ভাড়া বাবদ যা টাকা দিতে হয়, তা সামর্থের বাইরে বলে মনে করেন ইন্টার কাশী ও মহমেডান কর্তারা। ইন্টার কাশী এই কারণে অনেক কম খরচে গুয়াহাটিতে স্টেডিয়াম পাবে বলে সেখানে হোম ম্যাচ খেলতে চাইছে। কারণ নর্থ ইস্ট নিজেদের হোম ম্যাচ শিলংয়ের ম্যাচে খেলতে বেশি আগ্রহী। ওড়িশাও নিজের রাজ্য সরকারের বদান্যতায় ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে খেলতে না পারলে, গোয়া বা অন্যত্র, যেখানে কম খরচে খেলা সম্ভব হবে, সেটাই বেছে নেবে।
আইএসএলের ৯১ ম্যাচের একদফার হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে মিলিয়ে সুইশ মডেলে সূচী তৈরি সময় ছবিটা ছিল এমনই। সেকারণেই সুচী তৈরি করতে বারবার ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল। সেটা অবশ্য সব দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে মেটানো সম্ভব হয়েছে। এবার শুধু সরকারিভাবে ঘোষণাটুকু বাকি।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
