Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: ভারত ও পাকিস্তানের নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা এমন এক সময়ে মুখোমুখি হচ্ছে যখন দুই দেশের সম্পর্ক রীতিমতো আগুনের গোলার উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। এশিয়া কাপে দুই দেশের খেলা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসছে। একটা পক্ষ চাইছে খেলা বন্ধ হোক, আর এক পক্ষ চাইছে মাঠে নেমে পাকিস্তানকে হারিয়ে বদলা নিক ভারত। সব মিলে এমনিতেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে সব সময়ই একটা টানটান উত্তেজনার পরিবেশ থাকে, সেখানে এবার তা সব উত্তেজনাকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

ইতিমধ্যে দুই দলের তারকারা বিদায় নিয়েছেন। ভারতের যেমন বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা এই ফর্ম্যাট থেকে অবসর নিয়েছেন তেমনই পাকিস্তানের বাবর আজম এবং মহম্মদ রিজওয়ান এশিয়া কাপ ২০২৫-এর দলে জায়গা করে নিতে পারেননি। যার ফলে দুই দেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটা বড় পরিবর্তন এসেছে। দুই দলের টি২০-র দায়িত্ব এসে পড়েছে অভিষেক শর্মা, সাইম আইয়ুব, সলমন আঘা, শুভমান গিলদের উপর।

ভিন্ন পরিস্থিতিতে, এটি একটি আশাব্যঞ্জক তো বটেই। যেখানে পরবর্তী প্রজন্ম দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। যা দেখা অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে পহেলগামের পর এই পরিবর্তিত পরিস্থতিতে রবিবার প্রথমবারের মতো ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের বিরুদ্ধে খেলতে চলেছে। যা ঘিরে রীতিমতো ফুটছে দুই দেশ কিন্তু কেউই তা সর্বসমক্ষে স্বীকার করছেন না। বরং ম্যাচের উত্তেজনাকে দু’পক্ষই কিছুটা স্তিমিত রাখারই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও গত পাঁচটি টি২০-র ইতিহাস বলছে সমানে সমানে দাঁড়িয়ে দুই দেশ। শেষ পাঁচটি আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচে ভারত চারটি জিতেছে ও একটি হেরেছে। একইভাবে পাকিস্তানও চারটি জিতেছে ও একটি হেরেছে। এশিয়া কাপেও দুই দলই তাদের প্রথম ম্যাচ দাপটের সঙ্গে জিতেছে, যদিও প্রতিপক্ষ তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল।

তবে রবিবার ক্রিকেট বিশ্বের সব থেকে হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচের আগে সব স্পটলাইট কিন্তু ঘিরে রেখেছে দুই দলের দুই অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং সালমান আঘাকে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচটি টি-টোয়েন্টিতে, সূর্যকুমার যাদব কখনও ২০ রানের স্কোর অতিক্রম করতে পারেননি। তবে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। শেষ যখন দুই দেশ মুখোমুখি হয়েছিল তার পর সূর্যকুমার আরও অনেক ক্রিকেট খেলেছেন এবং নিজেকে প্রমান করেছেন। সঙ্গে কাঁধে রয়েছে অধিনায়কত্বের দায়িত্বও, তাতেও রীতিমতো সফল তিনি। তাই তার উপরই ভরসা রেখেছেন নির্বাচকরা।

অন্যদিকে সলমন আঘা অধিনায়কত্বের নিরিখে কিছুটা হলেও নবাগত। তবে তাতে কোনওভাবেই পিছিয়ে পড়ছেন না তিনি। যদিও এশিয়া কাপের প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে কারও সঙ্গে হাত না মিলিয়ে নেমে যাওয়ায় কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল কিন্তু তিনি তা নিজেই শুধরে নেন। তাঁর অধিনায়কত্বে পাকিস্তান বিশ্বের বাকি দলগুলির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পথে এগিয়েছে। এই অলরাউন্ডার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিখেছেন। এই ফর্ম্যাটে তাঁর আটটি হাফসেঞ্চুরির মধ্যে চারটি এই বছরই এসেছে।

অন্যদিকে কঠিন ম্যাচে সামনে রেখে দুই দলে কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা কি রয়েছে?

সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পিচ কিছুটা মন্থর চরিত্র তুলে ধরছে, তাই ভারত কেবল যশপ্রীত বুমরাহের মতো একজন বিশেষজ্ঞ ফাস্ট বোলারকে খেলাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে, যার মধ্যে হার্দিক পাণ্ড্যে এবং প্রয়োজনে শিবম দুবে সিম-বোলিং করছেন। এর ফলে একজন বাঁ-হাতি রিস্টস্পিনার (কুলদীপ যাদব), একজন রহস্যময় স্পিনার (বরুণ চক্রবর্থী) এবং একজন নিয়ন্ত্রিত স্পেশালিস্ট (অক্ষর প্যাটেল)-এর দলে থাকার সম্ভাবনা থাকছেই।

সম্ভাব্য ভারতীয় দল— অভিষেক শর্মা, শুভমান গিল, সঞ্জু স্যামসন, সূর্যকুমার যাদব, তিলক ভার্মা, শিবম দুবে, হার্দিক পাণ্ড্যে, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, যশপ্রীত বুমরাহ, বরুণ চক্রবর্থী

এদিকে পাকিস্তান দলে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে হ্যারিস রউফকে ফেরানোর সম্ভাবনা রয়েছে। দলে এমন সিম-বোলিং অলরাউন্ডারও রয়েছেন যাঁরা দলকে স্পিনে প্রচুর লড়াই দিতে সক্ষম, যা তাদের এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দেখা গিয়েছিল।

সম্ভাব্য পাকিস্তান দল— সাহেবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, ফখর জামান, সলমন আঘা (অধিনায়ক), হাসান নওয়াজ, মহম্মদ হ্যারিস (উইকেটরক্ষক), মহম্মদ নওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, শাহিন শাহ আফ্রিদি, সুফিয়ান মুকিম, আবরার আহমেদ

দুবাইয়ের প্রবল গরমে পিচ ও কন্ডিশন কেমন থাকবে?

দুবাই হাই স্কোরিং ভেন্যু নয়। গত দুই বছরে প্রথম ইনিংসে গড় রান রেট – অর্থাৎ ৩৬টি-টোয়েন্টি – ৭.৭। এই সময়ে ফাস্ট বোলাররা বেশি উইকেট নিয়েছেন (৪৪১-এর মধ্যে ২৭৭) তবে স্পিনাররা আরও বেশি লাভবাণ (৭.০৩ বনাম ৮.৩৬) হয়েছেন। বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, তবে গরমের কারণে খেলা বন্ধ হতে পারে।

২০১৪ সালের শুরু থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আটটি টি-টোয়েন্টির মধ্যে সাতটিতেই জয় পেয়েছে সেই দল যারা পরে রান তাড়া করতে নেমেছে, যার মধ্যে দুবাইতে অনুষ্ঠিত তিনটিও রয়েছে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে হার্দিক পাণ্ড্যে শীর্ষ উইকেট শিকারী, ছয় ইনিংসে ১৩টি উইকেট রয়েছে। তিনি এই ছয় ইনিংসে তিনটি করে তিন উইকেট নিয়েছেন এবং বল হাতে গড়ে প্রতি উইকেটে মাত্র ১২ রান দিয়েছেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টি-টোয়েন্টিতে তাদের আগের মুখোমুখি হওয়ার পর থেকে, পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে ভারতের রান রেট ৯.৬৬ (পূর্ণ সদস্যদের মধ্যে তৃতীয় সেরা), যেখানে পাকিস্তান ৮.১২ (পূর্ণ সদস্যদের মধ্যে সপ্তম সেরা)।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *