মুনাল চট্টোপাধ্যায়: এআইএফএফ সভাপতি কল্যান চৌবে, ক্লাবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য জানিয়েছিলেন, ‘ ১৪ ক্লাব নিয়ে ২০২৫-২৬ মরশুমের আইএসএল শুরু হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি।’ কিন্তু তিনি বড় মুখ করে একথা বললেও, ভেতরের খবর ছিল, ওড়িশা সহ ৬টি ক্লাব আইএসএল অংশগ্রহণ নিয়ে পূর্ণ সম্মতি জানায়নি। ওড়িশা তো শুরু থেকেই বলে এসেছে, তাদের পক্ষে নিজেদের পকেট থেকে টাকা দিয়ে আইএসএল খেলা সম্ভব নয়। এছাড়া গোয়া, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, চেন্নাইন, কেরালা শর্তসাক্ষেপ সম্মতি দেওয়ার কথা বলেছিল। বাকি ক্লাবগুলো অবশ্য জানিয়েছিল, তারা এআইএফএফের প্রস্তাব ও সুপারিশ মেনে খেলতে রাজি।
কিন্তু যেটা নিয়ে সমস্যায় পড়েছে এআইএফএফ, সেটা হল ১৪ দলের থেকে লিখিত সম্মতি পাওয়া আইএসএল অংশগ্রহণ নিয়ে। যাতে সেই সম্মতি পাওয়ার পর তারা দ্রুত আইএসএল আয়োজনের কাজ সারতে পারে। কারা কারা শেষপর্যন্ত খেলবে, আর কারা নানা অজুহাত দেখিয়ে সরে দাঁড়াবে, এটা চুড়ান্তভাবে জানতে সব ক্লাবের কাছেই চিঠি পাঠিয়েছে এআইএফএফ। তাতে সাফ বলা হয়েছে, আইএসএল আয়োজনের জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ নিতে ক্লাবগুলো যেন লিখিতভাবে তাদের অংশগ্রহণের সম্মতি পাঠায় সোমবারের মধ্যে। একইসঙ্গে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে, কমার্শিয়াল পার্টনার, ব্রডকাস্টিং পার্টনার, ও ২০২৫-২৬ আইএসএলের সূচী চুড়ান্ত করতে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে ক্লাবগুলো যেন তাদের হোম ম্যাচের জন্য মাঠ,পরিকাঠামো,ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিশদভাবে জানায়।
আসলে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্যর সামনে ভাজা মাছটি উল্টে খেলতে জানি না ভাব দেখিয়ে সব শুনে চলে এলেও,পরে আইএসএলের জন্য নিজেদের পকেট থেকে ১ কোটি করে টাকা দিয়ে খেলার প্রস্তাবটা হজম হয়নি অধিকাংশের। ইতিমধ্যেই ক্লাব কর্তাদের একাংশ বলতে শুরু করেছেন, একদফার সুইশ মডেল পদ্ধতির হোম আ্যান্ড পদ্ধতির খেলায় ম্যাচের সংখ্যা অনেক কমে যাবে। সেক্ষেত্রে ক্লাবগুলোকে যে পরিমান খরচ করতে হবে, তা অনেকটাই সাধ্যের বাইরে। লাভ তো কিছু নেই, উল্টে ফুটবলারদের বিশাল বেতন দেওয়া ভার বহন করা কঠিন। তাই ফুটবলারদের সঙ্গে তাঁদের স্যালারি কমানো নিয়ে কথা বলা জরুরি। চুক্তিবদ্ধ অধিকাংশ ফুটবলার এটা মানবেন কিনা সন্দেহ। সত্যি ফুটবলাররা যদি সেটা না মানেন, তাহলে আইএসএলে অংশ নেওয়াটা বোঝার সমান হবে। আবার ক্লাব না খেললে শুধু ফুটবলার নয়,দলের সঙ্গে জড়িত অসংখ্য মানুষ বিপদে পড়বেন রোজগার হারিয়ে। এই সমস্যাটা অবশ্য ক্লাবগুলোকেই সমাধান করতে হবে।
এআইএফএফ তাদের চিঠিতে পরিষ্কার জনিয়েছে, অংশগ্রহণের সম্মতি ক্লাবগুলি দিলে তারা পরবর্তী যে পদক্ষেপগুলি নেবে তার মধ্যে অন্যতম হল,১) আইএসএলের প্রশাসনিক খসড়া তৈরি করা। ২) রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোসালের খসড়া তৈরি করা ২০২৫-২৬য়ের আইএসএলের কমার্শিয়াল ও ব্রডকাস্ট পার্টনার ঠিক করা। ৩) আইএসএল ২০২৫-২৬ মরশুমের জন্য এএফসির কাছে বিশেষ ছাড়ের জন্য আবেদন করা। এর অর্থ কম সংখ্যক ম্যাচ খেলেও যাতে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন দল এএফসি স্লট পায়, তার জন্য আবেদন করা। ৪) আইএসএল ২০২৫-২৬ মরশুমের সূচী তৈরি ও ম্যাচের সঙ্গে জড়িত বিষয় বিশেষ করে ভেনু ঠিক করা। ৫) এআইএফএফ ও ক্লাবের মধ্যে অংশগ্রহণের ব্যাপারে লিখিত চুক্তি করা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
