Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী, ভুবনেশ্বর: কলিঙ্গ সুপার কাপ-এর প্রথম ম্যাচে প্রথমার্ধেই তিন গোলে এগিয়ে যেতে পারত ইস্টবেঙ্গল কিন্তু হল উল্টোই। প্রথমার্ধ শেষ হয় ইস্টবেঙ্গল ১, হায়দরাবাদ ১-এ। প্রথমার্ধের ১০ মিনিটের মধ্যে নিশ্চিত দুটো গোলের সুযোগ নষ্ট করে ইস্টবেঙ্গল। প্রথমটি নন্ধ কুমার আর দ্বিতীয়টি ক্লেটন সিলভা। নন্ধ কুমারের ভাগ্য খারাপ ছিল কিন্তু ক্লেটন যেভাবে ফাঁকা গোল পেয়েও বল জালে জড়াতে পারলেন না তাতে শেষ পর্যন্ত গোল না করলে আফসোস থেকে যেত এই ব্রাজিলিয়ানের। তবে এদিনের ম্যাচে জোড়া গোল করে নিজের ভুল শুধরে নিলেন তিনি। ইস্টবেঙ্গল ৩-২ গোলে জিতে শুরু করে দিল সুপার কাপ।

কলিঙ্গ সুপার কাপের প্রথম ম্যাচে মঙ্গলবার হায়দরাবাদ এফসির মুখোমুখি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল এফসি। শুরু থেকেই হায়দরবাদ বক্সে ঝড় তোলে ইস্টবেঙ্গল প্লেয়াররা। অন্যদিকে কিছুটা শুরু থেকেই নড়বড়ে ছিল রক্ষণভাগ। বিশেষ করে নিশু কুমারের দিক থেকেই বার বার আক্রমণে উঠতে দেখা গেল হায়দরবাদকে। রক্ষণের দুর্বল জায়গাটা শুরুতেই ধরে ফেলেছিলেন হায়দরাবাদের প্লেয়াররা। তাই সেদিকটাই বেছে নিলেন গোল করার জন্য।

ম্যাচ শুরুর আট মিনিটেই দারুণ সুযোগ চলে এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। বক্সের মধ্যে থেকেই গোল লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন নন্ধা কুমার। কিন্তু বল ক্রসবারের লেগে ফিরে আসে। ঠিক তার দুই মিনিটের মধ্যেই সেই সুবর্ণ সুযোগটি নষ্ট করেন ক্লেটন। নন্ধা কুমার বল নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন বক্সের মধ্যে। তাঁকে দেখে গোল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন হায়দরাবাদ গোলকিপার লক্ষ্মীকান্ত কাট্টিমনি। সেই সুযোগে তাঁকে লক্ষ্য করে উঠে আসা ক্লেটনকে বল বারিয়ে দিলেও সেই বল বাইরে পাঠান ক্লেটন। কিন্তু তার পর যে গোল তিনি ফ্রি কিক থেকে করলেন তাতে সাত খুন মাফ তাঁর।

ইস্টবেঙ্গল ও ক্লেটনের প্রথম গোল এল ম্যাচের ৩২ মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দৌঁড় শুরু করেছিলেন বোরহা হেরেরা। ডানদিক থেকে বক্সের মধ্যে ক্রস বাড়ান। জটলার মধ্যেই নিচু হয়ে আসা বল পায়ের টোকায় জালে জড়ান ক্লেটন সিলভা। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। তবে প্রথমার্ধে স্বস্তি মেলেনি কলকাতার দলের। ৪৪ মিনিটে সমতায় ফেরে হায়দরাবাদ। রামলুচুঙ্গার গোলে ১-১ করে হায়দরাবাদ। এই গোলের পিছনে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণের অবদান থাকবে কিছুটা।

আইএসএল-এ ইস্টবেঙ্গল পর পর ড্র করেছে শেষ কয়েকটি ম্যাচে। এই মিথ অবশ্যই ভাঙতে চাইবেন ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। তবে এই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল আর গোলের মাঝখানে বার কয়েক বাধা হয়ে দাঁড়াল ক্রসবার থেকে পোস্ট। ৫৪ মিনিটে ক্লেটনের দুরন্ত ফ্রি-কিক যেভাবে গোলকিপারকে দাঁড় করিয়ে রেখে গোলে ঢুকে গেল তা মনে রাখার মতো দর্শনীয় সেটপিস গোলের তালিকায় থাকবে অবশ্যই। ৭২ মিনিটে বোরহার চোখ ধাঁধানো ফ্রি-কিক শটের সামনে যদি বাধা হয়ে না দাঁড়াত পোস্ট তাহলে তখনই ৩-১ হয়ে যেত তার পরই পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতায় ফেরে হায়দরাবাদ।

হাতে তখন আর বেশি সময় নেই। ততক্ষণে গুটিকয় যে ইস্টবেঙ্গল সমর্থক এসেছিলেন তাঁদের মাথায়ও ড্রয়ের ভয় চেপে বসেছিল। কিন্তু তা থেকে বাঁচিয়ে দিল বোরহার মাপা কর্নার থেকে সল ক্রেসপোর হেড যা গোলকিপারকে দাঁড় করিয়ে রেখে চলে গেল গোলে। ৩-২-এ এগিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। তখন ম্যাচের বয়স ৮০ মিনিট। তখনই লেখা হয়ে গেল ম্যাচের ভাগ্য।

ইস্টবেঙ্গল: প্রভসুখন সিং গিল, নিশু কুমার, হিজাজি মেহের, আন্তোনিও পার্দো লুকাস, গুরসিমরাত সিং গিল (সল ক্রেসপো), মহম্মদ রাকিপ, বোরহা হেরেরা (এডউইন ভন্সপল), শৌভিক চক্রবর্তী (অজয় ছেত্রী), পিভি বিষ্ণু (জ্যাভিয়ের সিভেরিও), নন্ধা কুমার, ক্লেটন সিলভা

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *