Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী, ভুবনেশ্বর: খেলার মাঠ হয়তো এমনই। এখান থেকেই হয়তো ইংরেজি শব্দ ‘স্পোর্টসম্যান স্পিরিট’ কথাটা এসেছে। সত্যিই তো একটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই তো ওই সময়টুকুই তারপরটা তো আবার সবাই সমান। সেটা যেন বার বার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে যায় খেলার মাঠ। সে ক্রিকেট হোক বা ফুটবল, হকি বা অন্য খেলা। ম্যাচ শেষে খেলার ফল হয়ে যাওয়ার পর আর কেউ কারও শত্রু থাকে না। এমন দৃশ্য যেমন আইপিএল-এর মাঠে রোজই দেখা যাচ্ছে তেমনই আইএসএল-এর মাঠেও প্রতিদিনের মন ভাল করে দেওয়া ছবি তৈরি করছে।

মঙ্গলবার আইএসএল ২০২৩-২৪ সেমিফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ওড়িশা এফসি ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।  লিগ শেষ পর্যায়ে। গত কয়েক মাসের দীর্ঘ টানাপড়েনের শেষ কয়েকটা ধাপ বাকি রয়ে গিয়েছে। চার দল সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে। যেখানে এদিন প্রথম সেমিফাইনাল খেলতে নেমেছিল ওড়িশা ও মোহনবাগান। টা‌ন টান উত্তেজনার ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে ওড়িশাই। মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালের রাস্তায় এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে তারা। মাঠের মধ্যের ৯০ মিনিট যে লড়াই মোহনবাগানের বিরুদ্ধে দিয়েছেন রয় কৃষ্ণারা তার প্রভাব ছিটেফোটাও পাওয়া গেল না ম্যাচ শেষ।

কলিঙ্গ স্টেডিয়ামের মিক্স জোনের সামনে তখন ভাগে ভাগে জটলা দুই দলের ফুটবলার, কোচদের পরিবারের। কারও স্ত্রী-সন্তান, কারও বান্ধবী। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ফ্যানরাও। যদিও তাঁদের কিছুটা দূরে আটকে দেওয়া হয়েছে। গ্যালারিতে যাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন খেলা চলার সময় তাঁদেরই দেখা গেল পাশাপাশি দাঁড়িয়ে যার যার দলের জন্য গলা ফাটাতে। আসল দৃশ্য তৈরি হল যখন প্লেয়াররা বেরিয়ে এলেন এক এক করে।

লেনি রডরিগেজ আর লিস্টন কোলাসোর গল্প যেন শেষই হচ্ছিল না। তবে আসল দৃশ্যটা তৈরি হল রয় কৃষ্ণাকে ঘিরে। সবার আগে বেরিয়ে মিক্স জোনের বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন রয়। এক সময় মোহনবাগানের ঘরের ছেলে হয়ে ওঠা রয় এখন ওড়িশার বিশ্বস্ত সৈনিক। এদিন মোহনবাগানের বিরুদ্ধে গোল করে দলকে জিতিয়েছেন। গোল করার পর বেশ আবেগান্বিত দেখাচ্ছিল তাঁকে। কখনও আকাশের দিকে ছুঁড়ে দিলেন হাত, যেটা তাঁর অতি পরিচিত সেলব্রেশনের ভঙ্গি। আবার কখনও হাতে দিয়ে ঢাকলেন মুখ। তাঁর গোলেই জয় এল ওড়িশার। কিন্তু ম্যাচ শেষে একে একে সব মোহনবাগান প্লেয়ার, থেকে সাপোর্ট স্টাফ এবং কোচের সঙ্গে দেখা করার পরই স্টেডিয়াম ছাড়লেন সবার শেষে।

মিক্স জোনের ঠিক বাইরেই সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়েছিলেন রয় কৃষ্ণা। কখনও জরিয়ে ধরলেন শুভাশিসকে কখনও লিস্টনকে। কখনও তাঁর সঙ্গে কথা বলে গেলেন মোহনবাগানের কর্মীরা। জমে উঠল গল্প। সবার শেষে সাংবাদিক সম্মেলন সেরে এলেন মোহনবাগানের হেড কোচ অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাস। যেন এই সময়টার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন তিনি। সন্তানের মতো কাছে টেনে নিলেন হাবাস রয় কৃষ্ণাকে। বার কয়েক একে অপরকে জরিয়ে ধরলেন। ততক্ষণে ব্যারিকেডের বাইরে থেকে হাবাস, রয় কৃষ্ণার নামের ধ্বনি উঠে গিয়েছে। হেরে গেলেও সমর্থকদের কাছে গেলেন হাবাস। কথা বললেন, ছবি তুললেন। শুধু তিনি নন, শুভাশিস বোসকেও দেখা গেল সমর্থকদের কাছে এগিয়ে যেতে।

সবার শেষে গেলেন রয় কৃষ্ণা। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ওড়িশা ও মোহনবাগানের সমর্থকরা। তিনি যে এখনও মোহনবাগান সমর্থকদের মনের কাছে থেকে গিয়েছে সেটা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। পাশাপাশি তাঁরও মনের কোণায় রয়ে গিয়েছে সবুজ-মেরুন জার্সিটা। দুই দলের সমর্থকদের কাছেই গেলেন, কথা বললেন, তুলেন সেলফিও। তার পর বিদায় জানালেন স্টেডিয়ামকে। এভাবেই এক একটা কঠিন ম্যাচের পর মাঠের বাইরে তৈরি হয় এমনই মন ছুঁয়ে যাওয়া মুহূর্ত। এভাবেই মাঠের লড়াই মাঠেই রেখে দীর্ঘজীবী হোক বন্ধুত্ব, আত্মার সম্পর্ক।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *