Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: রীতিমতো দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৩-১-এ হারানোর পরে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের খেলোয়াড়রা ও সাপোর্ট স্টাফ। গত ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় শুক্রবার গুয়াহাটির ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে মোহনবাগানের ডাগ আউটে ছিলেন না হুয়ান ফেরান্দো। ফলে সাংবাদিক বৈঠকেও আসেননি তিনি। ম্যাচের পর সহকারী কোচ ক্লিফোর্ড মিরান্ডা বলেন, যে ভাবে সাফল্যে ফিরেছেন তাঁরা, সে জন্য তাঁরা আরও বেশি খুশি।

শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের মিরান্ডা বলেন, “আমরা শুধু জেতার জন্য খুশি নই, ভাল খেলে জিতেছি, সে জন্যও খুশি। গোল খাওয়ার পরেও ছেলেরা যে ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, সে জন্যও খুশি। এই পারফরম্যান্সের জন্য দল হিসেবে আমরা গর্বিত। এ বার আমাদের সামনের দিকে তাকানোর পালা”।

এ দিন চার মিনিটের মাথায় ফাল্গুনী সিংয়ের গোলে নর্থইস্ট এগিয়ে যাওয়ার পরে যে চাপটা এসেছিল, তা প্রথম গোল করে কাটিয়ে দেন দীপক টাঙরি। ১৪ মিনিটে গোল শোধের পর কামিংস ব্যবধান বাড়ান ২৮ মিনিটে এবং ৭১ মিনিটের মাথায় শুভাশিসের গোলে জয় সুনিশ্চিত করে মোহনবাগান এসজি।

জয় ছাড়াও সবুজ-মেরুন সমর্থকদের স্বস্তি দেওয়ার আরও একাধিক কারণ ছিল এই ম্যাচে। কামিংসের গোলে ফেরা, পেট্রাটস, বুমৌস ও মনবীরের মাঠে ফেরা। তার ওপর আবার বোনাস দলের বঙ্গ অধিনায়ক শুভাশিস বোসের গোল। সব মিলিয়ে দিনটা মনে রাখার মতো ছিল মোহনবাগানের।

দলের ফুটবলারদের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে সহকারী কোচ বলেন, “দলের ছেলেদের মানসিকতা অসাধারণ। একেবারে শুরু থেকে যে ভাবে শুরু করেছিলাম, যে ভাবে আমরা এই ম্যাচের প্রস্তুতি নিই সে জন্যও খুশি। শুরুতেই গোল খাওয়ার পর সাধারণত, ফুটবলাররা তাদের মেজাজ হারায়, মাথা গরম করে ফেলে, মানসিক ভাবে পিছিয়ে যায়। কিন্তু আজ আমাদের খেলোয়াড়রা গোল খাওয়ার পরেও একই রকম চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে। শুধু যে মানসিক দৃঢ়তা বজায় রেখেছে, তা নয়। টেকনিকের দিক থেকেও নিজেদের দক্ষতা বজায় রাখতে পেরেছে আমাদের ছেলেরা”।

কয়েক দিন আগে পর্যন্ত মোহনবাগান শিবির কার্যত হাসপাতালে পরিণত হয়েছিল। নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়রা অনেকেই চোট-আঘাতে জর্জরিত ছিলেন। সে জন্য এএফসি কাপের শেষ ম্যাচে দ্বিতীয় সারির দলও নামাতে হয়। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে এমন জয়ের জন্য গর্ববোধ করছেন মিরান্ডা। বলেন, “যে অবস্থায় এই ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা, তা ছিল ভয়াবহ। সপ্তাহ খানেক আগে আমাদের শিবিরে অন্তত ১১-১২ জনের চোট ছিল। আশিক, আনোয়ারদের তো অনেক দিনের জন্যই হারিয়েছি। ওদের পরে আমাদের হাতে কোনও সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ছিল না। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে এ ভাবে ম্যাচ জেতাটা কৃতিত্বের বই কি”।

এএফসি কাপ থেকে বিদায় নেওয়াটা একদিক দিয়ে যে শাপে বর হয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়ে ফেরান্দোর সহকারী বলেন, “এএফসি কাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পরে আমাদের সামনে আইএসএল ছাড়া কিছু ছিল না। এটাই স্বাভাবিক। এএফসি কাপে আমাদের শুরুটাও খারাপ হয়নি। দুই ম্যাচে ছয়, তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট পেয়ে আমরা ওপরের দিকেই ছিলাম। তার পরে দুটো ম্যাচ হেরে আমরা অনেক পিছিয়ে যাই। আমাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল না। অনেক সুযোগও হাতছাড়া করি ওই সময়। তবে এএফসি কাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পরে আমরা একদিকে মনোনিবেশ করতে পেরেছি। ফলে এখানে আমাদের খেলায় উন্নতি হচ্ছে। নিজেদের উজ্জীবিতও করতে পারছি”।

চলতি লিগে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলেছে মোহনবাগান এসজি। অন্যেরা যেখানে ৮, ৯ এমনকী দশটি ম্যাচও খেলে ফেলেছে, সেখানে মোহনবাগান শুক্রবার তাদের সাত নম্বর ম্যাচ খেলল। এর ফলে তারা সুবিধা পাবে বলেই মনে করেন প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার মিরান্ডা। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলেছি ঠিকই। তবে এটা আমাদের পক্ষে যেমন ভাল, তেমন খারাপও। যেমন কেরালা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে এবং সবচেয়ে বেশি পয়েন্টও পেয়েছে। সবারই লক্ষ্য যথাসম্ভব বেশি  পয়েন্ট জোগাড় করে নেওয়া। আমাদের সামনে এখনও অনেক ম্যাচ আছে। আশা করি, সেই ম্যাচগুলোতেও ভাল কিছু করব। আমরা কখনও হাল ছাড়িনি, ছাড়বও না। পয়েন্ট টেবলে পয়েন্ট থাকা সবাই পছন্দ করে। আমাদেরও আরও পয়েন্ট দরকার। সামনে ম্যাচও বেশি। পরপর ম্যাচ খেলতে হবে অন্যদের ধরার জন্য। সে জন্য মানসিক ভাবেও নিজেদের প্রস্তুত রাখতে হবে”।   

(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *