সুচরিতা সেন চৌধুরী, ভুবনেশ্বর: কলিঙ্গ সুপার কাপ-এ মোহনবাগানের প্রথম ম্যাচ ছিল আই লিগ দল শ্রীনিধি ডেকানের বিরুদ্ধে। আই লিগের দল হিসেবে তাকে যে সহজভাবে নেওয়ার কোনও জায়গা নেই তা ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই দেখিয়ে দিল তারা। এমন গতির ফুটবল কিন্তু আইএসএল-এও হয় না।প্রথম ৪৫ মিনিট যেভাবে মাঠ জুড়ে দৌঁড়ল দলটা তাতে খেলার গতি বাড়াতে বাধ্য হল মোহনবাগানও। মোহনবাগান ক্রমণে উঠলে পুরো দল নেমে রক্ষণ সামলালো। যে কারণে গোলর সামনে গিয়েও বার কয়েক আটকে যেতে হল। তবে শেষ হাসি হাসল মোহনবাগানই ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে। তবে শেষ বেলায় অভিষেকের জোড়া হলুদ কার্ড দেখে বেরিয়ে যাওয়া মোহনবাগানের জন্য বড় ধাক্কা।
রীতিমতো ভাঙাচোরা দল নিয়ে সুপার কাপ খেলতে নেমেছে কলকাতার দল তথা। গতবারে আইলিগ চ্যাম্পিয়ন। দলের সেরা আট দেশিয় প্লেয়ারই জাতীয় দলে। বাকিদের অনেকেই চোট-আঘাত জর্জরিত। তার মধ্যে অন্যতম দলের রক্ষণের ভরসা আনোয়ার আলি। তিনি ছিটকে যাওয়ার পর থেকেই মোহনবাগানের ডিফেন্স আর সামলে উঠতে পারেনি। এদিন তো রিজার্ভ বেঞ্চের প্লেয়ারদের নিয়ে রক্ষণ সাজাতে হয়েছিল সহকারি কোচ ক্লিফোর্ড মিরান্ডাকে। আশিস রাই, হেক্টর ইউয়েস্তের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হল সুমিত রাঠি ও রাজ বাসফোরকে।
গোল থেকে মাঝ মাঠ সব জায়গাতেই নতুন মুখ দিয়েই দল সাজাতে হল মোহনবাগানকে। এদিন মোহনবাগানে গোলে খেললেন অর্শ আনোয়ার শেখ থেকে মাঝমাঠের অভিষেক সূর্যবংশী। ভাঙা দল নিয়েও তাই জয়ের তাগিদ দেখা গেল সব-মেরুনের মধ্যে। ডেকানের মতো হাই ইনটেনসিটির ফুটবল খেলা দলের সঙ্গে সমানে সমানে দৌঁড়ল দলটা। যদিও প্রথম গোলের মুখ খুলল ডেকানই। যদিও পেনাল্টি থেকে।
ম্যাচের ২৮ মিনিটে পেনাল্টি পেয়ে গিয়েছিল শ্রীনিধি ডেকান। তাদের ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার উইলিয়াম আলেজ ডে অলিভিয়েরা মোহনবাগান গোলকিপারকে উল্টোদিকে ফেলে জালে বল জড়ালেন। তবে পিছিয়ে পড়ে হাল ছাড়েননি মোহনবাগান ফুটবলাররা। সমানে সমানে আক্রমণে প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেন হুগো বুমৌস, সাদিকুরা। যার ফল গোল হজমের ১০ মিনিটেই সমতায় ফিরল কলকাতার দল।
৩৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে জোড়াল শট নিয়েছিলেন হুগো বুমৌস কিন্তু সেই শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ততক্ষণে বক্সের মধ্যে পৌঁছে গিয়েছেন জেসন কামিংস। ফিরতি বল প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ক্লিয়ার করার সুযোগ না দিয়েই চলতি বলে তাঁর শট জড়িয়ে গেল ডেকান জালে। সমতা ফিরে পেয়ে সাময়িক হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেল মোহনবাগান। দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটাই গোছানো ফুটবল খেলল সবুজ-মেরুন। রক্ষণ থেকে আক্রমণ সবেতেই আত্মবিশ্বাস দেখা গেল দলটার মধ্যে। গোলে নিচে নতুন মুখও সামলালেন শেষ রক্ষণ।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও অনেকটাই এগিয়ে যে শুরু করেছিল মোহনবাগান তার প্রমাণ পাওয়া গেল ৭১ মিনিটেই। আশিস রাইয়ের পাস থেকে বক্সের মধ্যে সুযোগ সন্ধানী সাদিকুর পায়ের টোকায় যখন বল জড়িয়ে গেল ডেকান গোলে। ২-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর মোহনবাগানের সামনে ছিল ব্যবধান ধরে রাখার লড়াই। যাতে সফল তারা। সাইড লাইনে যখন উত্তেজিত ডেকান কোচ সারাক্ষণ চিৎকার করে গেলেন তখন অন্যদিকে শান্ত ক্লিফোর্ড মিরান্ডা। ২-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে শুধু দেখা গেল কপালে হাত ছোঁয়াতে। হেড কোচ বিহিন একটা দলের কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়ে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জটা শুরুতে জিতে নিলেন ক্লিফোর্ড মিরান্ডা।
মোহনবাগান: অর্শ আনোয়ার শেখ, সুমিত রাঠি, রাজ বাসফোর, হেক্টর ইউয়েস্তে, আশিস রাই, হুগো বুমৌস (টাইসন সিং), অভিষেক সূর্যবংশী, কিয়ান নাসিরি, আর্মান্দো সাদিকু (সুহেল আব্দুল সামাদ), জেসন কামিংস (সিবাজিত সিং), দিমিত্রি পেত্রাতোস।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
