Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ সুপ্রিম কোর্টের ধমক খেয়ে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন নড়েচড়ে বসেছে। একইসঙ্গে ফিফা ও এএফসি র চোখ রাঙানিও আছে। এদের সকলের কড়া নির্দেশ, ভারতের ঘরোয়া ফুটবলের অচলাবস্থা কাটাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মরশুম শুরু করতে হবে। যাতে শাস্তির মুখে পড়তে না হয়, তাই তড়িঘড়ি সুপার কাপের তারিখ ঘোষণা করেছে এআইএফএফ। ২৫ অক্টোবর থেকে ২২ নভেম্বর।

কিন্তু সমস্যা হল অন্য জায়গায়। সুপার কাপের ফরম্যাট কী হবে, কোথায় হবে, কতটা গ্যাপে গ্যাপে খেলা পড়বে, কিছুই পরিষ্কার করে বলেনি ফেডারেশন। শুধু তাই নয়, সম্প্রচার স্বত্ত্ব কী হবে, ক্লাবগুলো কী বেনিফিট পাবে, সেটাও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি এখনও পর্যন্ত। শুধু একটা বিষয়ই জানানো হয়েছে ফেডারেশনের তরফ থেকে, তাও ক্লাবগুলো প্রশ্ন তোলায়, সেটা হল আইএসএলে অংশগ্রহণকারী সমস্ত ক্লাব আর ৬ আইলিগ ক্লাবের মধ্যে সুপার কাপ বিজয়ী দল এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু প্লেঅফ খেলার সুযোগ পাবে। এই প্রশ্নটা অবশ্য বেশি করে তুলেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারা এটাও জানতে চেয়েছে সুপার কাপে কতজন বিদেশি তারা খেলাতে পারবে?‌

অন্যান্য ক্লাবের শুধু সুপার কাপ নিয়ে নয়, আরও অনেক ব্যাপার নিয়েই প্রশ্ন আছে। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট বা এফসি গোয়া এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌র গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে এমনিতেই ব্যস্ত থাকবে চলতি বছরের শেষপর্যন্ত। তারপর নকআউটে উঠলে অন্য কথা। তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌র ফাঁকে ফাঁকে সুপার কাপ খেলতে রাজি আছে। তাদের নির্ধারিত সূচীর সঙ্গে সংঘাত না ঘটলে। ফেডারেশনকে তাই সুপার কাপ খেলার সম্মতি জানিয়েই দিয়েছে। এমনকি অবাক করা ব্যাপার হল, যাদের এইমুহূর্তে কোনও স্পনসর, দলের অবস্থা বেহাল, সেই মহমেডানও সুপার কাপ খেলার সম্মতি জানিয়েছে।

কিন্তু চেন্নাইন এফসি, কেরালা ব্লাস্টার্স, মুম্বই সিটি, ওড়িশা এফসির সুপার কাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনও ঝুলে আছে। চেন্নাইন ও কেরালা ব্লাস্টার্স শর্তসাপেক্ষে সুপার কাপে খেলতে সম্মতি দিতে পারে, টুর্নামেন্টের ফরম্যাট, আর্থিক লাভ ও সম্প্রচার স্বত্ত্বের বিষয়টা স্বচ্ছভাবে ফেডারেশন জানালে। তবে চেন্নাইন যে খেলতে আগ্রহী সেটা বোঝা যাচ্ছে, সরকারিভাবে সম্মতি এখনও না দিলেও, তারা ক্লিফোর্ড মিরান্দাকে নতুন মরশুমের চিফ কোচ ঘোষণা করায়। অনেক দলই এবার ভাঙা মরশুমের জন্য বিদেশি কোচ নিয়োগের পতে হাঁটতে নাও পারে। বরং কাজ চালাতে দেশি কোচের ওপর ভরসা রাখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

তবে একটা জোর গুঞ্জন রয়েছে, শুধু সুপার কাপ সামনে রেখে অনেক দলই নিজেদের ক্লাবের পরিচালন ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে না। তারা নিশ্চিতভাবে জানতে চায়, আইএসএল শুরুর অবস্থানটা কোন পর্যায়ে আছে। এব্যাপারে নিশ্চয়তা না পেলে সুপার কাপে তারা নাও খেলতে পারে। ফেডারেশন খুড়োর কলের মতো সুপার কাপকে সামনে ঝুলিয়ে রেখে সময় কেনার ও আইএসএল আয়োজন নিয়ে টালবাহানা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিপদ বাড়বে।

আইএসএল শুরুর যে সদিচ্ছা ফেডারেশনের আছে, সেটা প্রমাণ করতে অন্তত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে গ্লোবাল টেন্ডার ডেকে বানিজ্যিক সহযোগীর বিষয়টা ঠিক করার উদ্যোগটা দেখাতে হবে। এর সঙ্গে ফেডারেশনের সংশোধিত নতুন সংবিধান কবে আসবে, বা ফেডারেশনের নতুন কার্যকরী কমিটি গড়তে নির্বাচন হবে, তার কোনও সম্পর্ক নেই। দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। একটা হল পুরোপুরি প্রশাসনিক বিষয়, আর আইএসএল হল কম্পিটিশনের দিক। তাই বানিজ্যিক সহযোগীর ভূমিকায় এফএসডিএল আবার বিনিয়োগ করতে না চাইলে, নতুন কাউকে রাজি করাতে হবে আইএসএল আয়োজনের দায়িত্ব নিতে। সেটা যদি অস্থায়ী বন্দোবস্ত যদি আপাতত হয়, তাহলেও চলবে। পরে না হয়, স্থায়ী বিনিয়োগকারী স্পনসর বা বানিজ্যিক সহযোগীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে যাওয়া চলতে পারে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *