অলস্পোর্ট ডেস্ক: ভারতীয় সিনিয়র মহিলা ফুটবল দলের তারকা বাংলার মেয়ে সঙ্গীতা বাসফোরের মহিলা বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্যের কথা তো সকলেরই জানা। কিন্তু এখন থেকে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পোষণ করছে অনূর্ধ্ব ২০ ভারতীয় মহিলা দলের সদস্য নেহা, শুভাঙ্গী, মোনালিসারা। সদ্য সঙ্গীতাদের মতোই নেহারা অনূর্ধ্ব ২০ এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতার্জন করেছে।
২ বছর আগে ভিয়েতনামের থেকে মাত্র এক গোলের পার্থক্যে পিছিয়ে থাকায় নেহাদের এশিয়ান কাপের মূল পর্বে যাওয়ার যন্ত্রণা কুরে কুরে খাচ্ছিল। এবার সেই আপসোস মিটেছে উইঙ্গার নেহার ক্রশে মায়ানমারের বিরুদ্ধে পুজার জয়সূচক গোলে। ১৯ বছরর নেহা নিজের উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে পারেনি এই সাফল্যে। তার আবগমথিত প্রতিক্রিয়া, ‘ আমি এখনও একটা ঘোরের মাঝে আছি, প্রথমবার এশিয়ান কাপের মূল পর্বে গিয়ে। গতবার ভিয়েতনামে মূল পর্বে যাওয়ার সুযোগ হাতাছাড়া হয়েছিল মাত্র এক গোলের জন্য। এবার লক্ষ্যপূরণ হওয়ার গর্বিত। এরজন্য আমি কৃতজ্ঞ বাবার কাছে। ম্যাচের আগে বাবা আমাকে ফোন করে বলেছিল, বেটা, আজ ভারতীয় ফুটবলের জন্য এমন কিছু কর, যাতে আমাদের সকলের মাথা উঁচু হয়। কোচও আমাকে সবসময় উৎসাহ দিয়ে গেছেন। ম্যাচের দিনও বলেছিলেন, সেরাটা দাও। সাফল্য আসবেই। ওঁদের কথা ও আস্থার মর্যাদা রাখতে পেরে খুব খুশি। তৃপ্ত।’
ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে গোলশূণ্য ড্র করার পর অনূর্ধ্ব ২০ দলের অধিনায়ক শুভাঙ্গি সিংয়ের গলায় একরাশ হতাশা ঝরে পড়েছিল। এখন অনূর্ধ্ব ২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পর শূণ্যে ভাসছেন, যেন চাঁদে পা রেখে চলছেন। শুভাঙ্গির ভাষায়, ‘ সত্যি বলতে কী এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না, আমরা পেরেছি। মায়ানমারের বিরুদ্ধে ম্যাচটা আমাদের কাছে মাস্ট উইন ছিল। ড্র করলে ছিটকে যেতাম। গোটা স্টেডিয়ামের দর্শক আমাদের বিপক্ষে ছিল। সেই চাপের মুখে দাঁড়িয়ে একটা দল হিসেবে ম্যাচ জিতছি। তাও দুই ডিফেন্ডার সিনডি কোলনি ও থৌবিসানা চানু আর গোলকিপার মোনালিসার হার না মানা লড়াইয়ের কথা আলাদাভাবে বলতেই হবে।’
অনূর্ধ্ব ২০ ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলের সুইডিশ চিফ কোচ জোয়াকিম আলেকজান্ডারসন নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মেয়েরা এশিয়ান কাপের মূল পর্বে যাওয়ায়। তাঁর মতে, ‘ ডিসেম্বর থেকে এই মেয়েদের সঙ্গে আছি। ওরা পরিশ্রম, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দলগত সংহতির দাম পেল। আমি দেখেছিলাম ভারতীয় সিনিয়র মহিলা দল এশিয়ান কাপের মূল পর্বে যাওয়ার পর আমার মেয়েরাও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল একইরকম কিছু করে দেখাবে। ওটাই মোটিভেশনের কাজ করেছে ওদের খেলায়। তবে এখানেই থেমে গেলে চলবে না। খেলায় আরও উন্নতি ঘটাতে হবে, এশিয়ান কাপের মূল পর্বে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরতে।’
সিনিয়রা পেরেছেন। অনূর্ধ্ব ২০ মহিলা ফুটবলাররাও। এবার সকলের চোখ থাকবে অনূর্ধ্ব ভরাতীয় মেয়ে ফুটবলারদের দিকে। ২০০৫ সালের এএফসি এশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ পায়নি অনূর্ধ্ব মহিলা ফুটবলাররা। ১৩-১৭ অক্টোবর আয়োজক কিরঘিজ রিপাবলিক ও উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে অনূর্ধ্ব ১৭ মহিলা দল একইবছরে সিনিয়র ও অনূর্ধ্ব ২০র পর এশিয়ান কাপের মূল পর্বে যোগ্যতার্জনের হ্যাটট্রিক করার লক্ষ্যপূরণে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
