সঞ্জয় সেন
অলস্পোর্ট ডেস্ক: এক কথায় ফেডারেশনকে অপদার্থ আখ্যা দিলেন প্রাক্তন মোহনবাগান কোচ সঞ্জয় সেন । তাঁর প্রশ্ন, “সুপার কাপের মতো একটা ইভেন্ট কিন্ত কোনও টেলিভিশন চ্যানেলে তার লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছে না। কতজন অ্যাাপে খেলা দেখতে পারবে? ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ম্যাচ একটা আলাদা গুরুত্ব। এই দুই দলের ছোটদের ম্যাচেও কতটা উত্তেজনা থাকে সবাই দেখেছে। সেখানে এই ম্যাচে তো থাকবেই। গুটিকয় পাগল সাপোর্টার হয়তো ভুবনেশ্বর ছুটে যাবে কিন্তু বাকিরা কী করে খেলা দেখবে?”
তাঁর মতে, ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি সবাই চায়। ভারতীয় ফুটবল এগোবে কিন্তু এমন দায়সাড়া ভাবে নয়। ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি, কলকাতার দুই দল ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের খেলারও সমালোচনা করেছেন তিনি। তিনি বলেন, “দেখলাম হায়দরাবাদ মতো একদল ভারতীয় ফুটবলার নিয়ে তৈরি দলকে হারাতেই নাস্তানাবুদ অবস্থা ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের মতো দলের। কোনওরকমে জিতেছে। মোহনবাগানকে তো দেখলাম পেনাল্টি থেকে গোলে জিতল।”
সব মিলে দুই দলের খেলায় ভাল ফুটবলের অভাব খুঁজে পাচ্ছেন তিনি। সামনে ডার্বি, যা নিয়ে কোনও আগাম মন্তব্য করতে চান না। বলছেন ডার্বিতে কেউ এগিয়ে, পিছিয়ে থাকে না। কখন সবটা বদলে যাবে কেউ জানে না। তিনি বলেন, “আগে অনেকবার আগাম প্রেডিকশন করে বিপদে পড়েছি। তবে ড্র করার মানসিকতা নিয়ে নামলে বিপদে পড়তে হবে।” সুপার কাপে গ্রুপ-এ-র হিসেব বলছে ড্র করলেই সেমিফাইনালে চলে যাবে ইস্টবেঙ্গল। মোহনবাগানে জন্য মাস্ট উইন ম্যাচ। সঞ্জয় সেন চান দুই দল ভাল ফুটবল খেলুক।
তিনি বলেন, “যদি পারফর্মেন্সের দিকে তাকাই তাহলে তুলনমূলকভাবে টেকনিক্যালি এবং ট্যাকটিক্যালি একটু এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল।” তবে ডার্বিতে কাউকেই এগিয়ে রাখছেন না তিনি। পাশাপাশি মোহনবাগান দলের অনেকগুলো দিক নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। যেমন সাত জন ফুটবলারের জাতীয় দলে থাকা, চোট-আঘাত, কোচ পরিবর্তন, কোনওটাকেই ইস্যু করার পক্ষে নন তিনি।
তিনি বলেন, “এটা তো আগে থেকেই জানা ছিল যখন সুপার কাপ হবে তখন মূল প্লেয়াররা জাতীয় দলে থাকবে। আর যে টুর্নামেন্ট ছ’জন বিদেশি খেলতে পারবে তাদের আবার কিসের চিন্তা। আর কোচ ফল দিতে না পারলে তাঁকে মাঝ পথে চলে যেতেইই হবে এটা সর্বত্র হয়। ইউরোপেও হয়। আর যিনি কো হয়ে এসেছেন সেই হাবাস তো আর নতুন নন, দলটাকে জানেন সঙ্গে প্রথম থেকে ক্লিফোর্ড রয়েছে সহকারি হিসেবে। অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। তবে তিনি এসেই ডার্বিতে ম্যাজিক করে দেবে সেটা ভাবা ভুল।”
দুই দলের প্লেয়ার ছাড়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিলেন তিনি। বলছিলেন, “প্রীতণ কোটালকে ছেড়ে দেওয়াটা বড় ভুল। আজকে যখন আনোয়ার খেলতে পারছে না তখন সেই জায়গাটা সামলাতে পারত প্রীতম। শুনছি সাদিকুকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। তবে তাঁকে ছাড়তে হলে ভাবতে হবে। নামের দিক থেকে অনেক বড় না রয়েছে, বিশ্বকাপার রয়েছে, কিন্তু বিশ্বকাপে কতক্ষণ খেলেছে কে জানে।”
ইস্টবেঙ্গলের পরিবর্তন নিয়েও তিনি সাবধান করেছেন। তিনি বলেন, “সিভেরিওকে ছেড়ে দেবে শুনছিলাম। কিন্তু শেষ ম্যাচে একটা দারুণ গোল করে দিয়েছে। নতুন একজন স্প্যানিশ প্লেয়ার এসেছে শুনলাম। বায়োডেটা বেশ ওজনদার।” দুই কোচ প্রসঙ্গে সঞ্জয় সেন বলেন, “কুয়াদ্রাত ও হাবাস একে অপরকে খুব ভালভাবে জানে। এর আগে যখন কুয়াদ্রাতা বেঙ্গালুরুর কোচ ছিল তখন হাবাস এটিকের কোচ ছিল। দু’জনেই স্প্যানিশ।” তবে সব কিছুর শেষে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি আর ভাল ফুটবল চান সফল এই বাঙালি কোচ।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
